গেমিং অ্যাপ থেকে জইশ নেটওয়ার্ক! হাওড়া থেকে ধৃত জঙ্গির চাঞ্চল্যকর কান্ডকারখানা ফাঁস!

বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিং থেকে ধৃত জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) জঙ্গি কানেকশনের অভিযুক্ত হামিম মণ্ডলের তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (STF)। হামিমের নেটওয়ার্কের শিকড় কতদূর বিস্তৃত ছিল, তা স্পষ্ট করে এবার তার আরও এক ঘনিষ্ট সহযোগীকে গ্রেফতার করল এসটিএফ। রবিবার রাতে হাওড়ার বেলগাছিয়া এলাকা থেকে আটক করার পর জেরা করে আদিত্য সিং নামের ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। গোয়েন্দাদের দাবি, ধৃত আদিত্যর বাড়ি হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডে।
কীভাবে হামিমের সংস্পর্শে আসে আদিত্য?
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, হামিম মণ্ডলের সঙ্গে আদিত্য সিংয়ের দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল। একটি অনলাইন গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে দু’জনের প্রথম যোগাযোগ হয় এবং পরবর্তীতে হাওড়াতে তাদের সরাসরি দেখাও হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে এসটিএফের দাবি, হামিমই আদিত্যকে তার জঙ্গি মডিউলে বা দলে নিয়োগ করেছিল। পাকিস্তানের সুপরিচিত ‘ভাট্টি গ্যাং’-এর সঙ্গেও এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে আদিত্য যোগাযোগ রাখত বলে জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা।
মন্ত্রীর ছেলেকে অপহরণ ও মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির উপর নজরদারি
তদন্তে নেমে আরও এক বিস্ফোরক তথ্য হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। গোয়েন্দাদের দাবি, মন্ত্রী উমেশ রাইয়ের ছেলেকে অপহরণের একটি বড় ষড়যন্ত্রে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল এই আদিত্য সিং। সে হামিম মণ্ডলের নির্দেশে মন্ত্রী উমেশ রাইয়ের ছবি এবং বিভিন্ন গোপনীয় বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে হামিমের কাছে সরবরাহ করত। এছাড়া, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে হামিম মণ্ডল খোদ মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
বাংলায় জইশ মামলায় তৃতীয় গ্রেফতারি
উল্লেখ্য, বাংলায় ‘জইশ-ই-মহম্মদ’ সংক্রান্ত এই চাঞ্চল্যকর নাশকতার ছক মামলায় এই নিয়ে মোট তিনজনকে গ্রেফতার করল এসটিএফ। এর আগে বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর গত শনিবার জইশ হামিমের বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে গ্রেফতার করা হয়। আর এবার গোয়েন্দাদের জালে ধরা পড়ল হামিমের অন্যতম প্রধান সহযোগী আদিত্য সিং। সোমবারই ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়েছে। জেরা করে এই জঙ্গি চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।