১৯ বছরের মেয়েকে নিয়ে চরম পথ দম্পতির! পুনেতে ঋণের দায়ে আত্মঘাতী একই পরিবারের তিনজন?

মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক এক ঘটনার সাক্ষী থাকল মহারাষ্ট্রের পুনে জেলা। আর্থিক অনটনের জেরে ১৯ বছরের তরুণী মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে চরম পথ বেছে নিলেন এক দম্পতি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুনের পিম্পরি এলাকার মোরওয়াদি অঞ্চলে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট বা চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যা এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা আর্থিক সংকটের দিকটি স্পষ্ট করে দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত দম্পতির নাম বিনোদ পিল্লাই (৫০) এবং শ্রীজা পিল্লাই (৪৫)। তাঁদের একমাত্র মেয়ের বয়স ১৯ বছর, নাম পূর্ণিমা পিল্লাই। পরিবারটির আদি নিবাস কেরলে হলেও গত তিন বছর ধরে তারা পুনের মোরওয়াদিতে বসবাস করে আসছিল। স্থানীয় সূত্রে খবর, শ্রীজা পিল্লাই মোরওয়াদির একটি স্থানীয় স্কুলের সমন্বয়কারী বা কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় রবিবার যখন শ্রীজা কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকেন এবং তাঁর মোবাইল ফোনেও কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। সহকর্মীরা বারবার ফোন করেও যখন তাঁর কোনো সাড়া পাননি, তখন তাঁরা বিচলিত হয়ে শ্রীজার আত্মীয়দের বিষয়টি জানান। এর পরেই আত্মীয়রা পিল্লাই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। সন্দেহ হওয়ায় কাছাকাছি বসবাসকারী কয়েকজন আত্মীয় সোজা পিল্লাইয়ের বাড়িতে এসে উপস্থিত হন।
সেখানে পৌঁছে তাঁরা দেখতে পান ঘরের দরজা খোলা রয়েছে এবং ভেতরে ওই তিন সদস্যই অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে আত্মীয়রা তৎক্ষণাৎ স্থানীয় পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দম্পতি ও তাঁদের ১৯ বছরের মেয়েকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার প্রথমে ৫০ বছরের বিনোদ পিল্লাইয়ের মৃত্যু হয়। এরপর রবিবার চিকিৎসকরা তাঁর স্ত্রী শ্রীজা পিল্লাই ও মেয়ে পূর্ণিমা পিল্লাইকেও মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। ওই নোটে আর্থিক অনটনের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি নোটে এও লেখা রয়েছে যে, তাঁদের এই চরম সিদ্ধান্তের জন্য যেন অন্য কাউকে দায়ী করা না হয়। পুলিশ দেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ এই ঘটনাটিকে একটি আত্মহত্যার ঘটনা বলেই অনুমান করছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।