এফটিএ থেকে খনিজ খাত: ভারতের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে মোদী সরকারের মেগা মাস্টারপ্ল্যান!

অর্থনৈতিক কূটনীতিতে এক বিরাট সাফল্যের পথে হাঁটছে নয়াদিল্লি ও তাশখন্দ। আগামী তিন বছরের মধ্যে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে বর্তমানের দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে দ্বিগুণ করে সরাসরি তিন বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ভারত-উज्बेকিস্তান বিজনেস ফোরামের মঞ্চ থেকে এই যুগান্তকারী ঘোষণা করেন। উভয় দেশেরই বৃহৎ বাণিজ্য সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা চলছে বলে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বর্তমানে ভারত ও উज्बेকিস্তানের মধ্যে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বার্ষিক বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে। তবে দুই দেশের মন্ত্রী ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা একমত যে, এই পরিসংখ্যান প্রকৃত ক্ষমতার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। ফোরামে উপস্থিত দুই দেশের শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের সামনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে পীযূষ গোয়েল জোর দিয়ে বলেন যে, ভারতীয় অর্থনীতি বর্তমানে ইনফরমেশন টেকনোলজি বা আইটি, দক্ষ তরুণ কর্মী বাহিনী এবং বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারে অভাবনীয় শক্তিতে বলীয়ান। অন্যদিকে, উज्बेকিস্তানের ভাণ্ডারে রয়েছে খনিজ সম্পদ এবং উন্নত মানের তুলা উৎপাদনের অপরিসীম ক্ষমতা। এই দুই ভিন্ন শক্তির মেলবন্ধন দুই দেশের অর্থনীতিকে রাতারাতি বদলে দিতে পারে।

অনুষ্ঠানে উज्बेকিস্তানের বিনিয়োগ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী লাযিজ কুদেরতোবও মুক্তকণ্ঠে ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বহুগুণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি স্বীকার করেন যে, দুই দেশের বর্তমান বা বাণিজ্যের বর্তমান পরিমাণ তাদের প্রকৃত সক্ষমতার থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে ইস্পাত বা স্টিল শিল্প, ওষুধ বা ফার্মাসিউটিক্যালস, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, খনিজ উত্তোলন এবং অটোমোবাইল সেক্টরে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বড় অংকের বিনিয়োগ করার জন্য উষ্ণ আমন্ত্রণ জানান তিনি। কুদেরতোব অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, এই মুহূর্তে ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০০-র কাছাকাছি ভারতীয় কোম্পানি উज्बेকিস্তানের মাটিতে অত্যন্ত সফলভাবে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের এক অন্যের দেশের বাজারে প্রবেশ করার পথ আরও সুগম করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত ও উज्बेকিস্তানের এই নতুন বাণিজ্য কৌশল কেবল দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককেই মজবুত করবে না, বরং সমগ্র মধ্য এশিয়া অঞ্চলে ভারতের আধিপত্য ও অর্থনৈতিক প্রভাব আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। খনি শিল্প এবং ফার্মাসিউটিক্যালস সেক্টরে যৌথ উদ্যোগের ফলে আগামী দিনে কর্মসংস্থানের নতুন জোয়ার আসবে বলেও তীব্র আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দুই দেশের শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারকরা।