বিজেপির দুর্গে ধাক্কা, ইতিহাসের দোরগোড়ায় প্রশান্ত কিশোর! মহাবিজয়ের পথে PK!

ভোটকুশলী হিসেবে দেশজুড়ে চূড়ান্ত সাফল্য ও খ্যাতি অর্জনের পর সরাসরি রাজনীতির ময়দানে নেমে বড় চমক দিলেন প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor)। এতদিন নেপথ্যে থেকে বিভিন্ন দলকে জেতালেও, নিজের দল ‘জনসূরয পার্টি’ (Jan Suraaj Party) গঠন করে সরাসরি ভোটে লড়েই বাজিমাত করার দোরগোড়ায় তিনি। বিজেপির দীর্ঘদিনের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি তথা প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের ছেড়ে যাওয়া বিহারের হাইপ্রোফাইল বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ের দিকে এগিয়ে চলেছেন পিকে।

বাঁকিপুরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বিজেপি সাম্রাজ্য

১৯৯৫ সাল থেকে দীর্ঘ তিন দশক ধরে এই আসনটি (পূর্বে পাটনা পশ্চিম) একপ্রকার বিজেপির একচ্ছত্র দখলে ছিল। ২০১০ সাল থেকে টানা চারবার এই কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে এসেছিলেন নিতিন নবীন। সর্বশেষ নির্বাচনেও তিনি প্রায় ৬২ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছিলেন। পরবর্তীতে তাঁকে রাজ্যসুবায় পাঠানো এবং দলের সর্বভারতীয় সভাপতি করার পর এই আসনে উপনির্বাচন অনিবার্য হয়ে পড়ে। নিশ্চিত জেতা এই আসনে বিজেপি প্রথমে অভিষেক কুমার এবং পরবর্তীতে নীরজ কুমার সিনহাকে প্রার্থী করলেও দলের অন্দরের অসন্তোষ এবং স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণ তাদের কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে ফেলেছিল।

কোন অঙ্কে বাজিমাত করলেন প্রশান্ত কিশোর?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কৌশল ও সমীকরণের ওপর ভিত্তি করেই এই উপনির্বাচনে গেরুয়া ঝড় রুখে দিয়েছেন পিকে:

  • বিকল্প রাজনীতির উত্থান: রাজ্যের প্রথাগত RJD এবং BJP-র দ্বিমুখী মেরুকরণের বাইরে এসে বাঁকিপুরের শহুরে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ভোটাররা দীর্ঘদিন পর তৃতীয় কোনো শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে জনসূরযকে বেছে নেওয়ার বড় আগ্রহ দেখিয়েছেন।

  • তৃণমূল স্তরের জনসংযোগ: প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলির চেনা বৃত্তের বাইরে বেরিয়ে সরাসরি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে বুথ স্তরে সংগঠনের শিকড় মজবুত করার যে বার্তা পিকে দিয়েছিলে, তা ভোটারদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

  • পরিবারবাদ ও অসন্তোষকে কাজে লাগানো: বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়ন ঘিরে দলের অন্দরেই যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, তা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নিজেদের অনুকле ব্যবহার করেছে জনসূরয শিবির।

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ ট্রেন্ড ও গণনার হিসাব অনুযায়ী, বাঁকিপুরে পিকের এই দুর্দান্ত ফলাফল শুধুমাত্র একটি উপনির্বাচনের জয় নয়, বরং বিহারের রাজনীতিতে এক নতুন রাজনৈতিক শক্তির আত্মপ্রকাশের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে চলেছে আগামী দিনে।