তেলাপোকা জনতা পার্টির বিক্ষোভ, মামলা প্রত্যাহারে রাজ্যগুলিকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিল সুপ্রিম কোর্ট!

তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ সংক্রান্ত সহিংসতা ও বিভিন্ন আবেদনের শুনানিতে এক অতি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল দেশের শীর্ষ আদালত। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, বিক্ষোভের জেরে দায়ের হওয়া এফআইআর বা মামলাগুলি প্রত্যাহার কিংবা বন্ধ করার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা রাজ্য সরকারগুলির রয়েছে। তবে এর জন্য নির্দিষ্ট আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। প্রধান বিচারপতি তাঁর পূর্ববর্তী ২৮শে জুলাইয়ের আদেশ সংশোধন করে জানিয়েছেন যে, ‘ফৌজদারি ইতিহাস’ বলতে মূলত খুন, ধর্ষণ বা সন্ত্রাসবাদের মতো গুরুতর এবং জঘন্য অপরাধকেই বোঝানো হবে।

এর ফলে যে সমস্ত সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী বা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ছোটখাটো বা রাজনৈতিক প্রতিবাদ সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা আইনি সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে কেন্দ্র সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, গুরুতর ও জঘন্য অপরাধের রেকর্ড রয়েছে এমন আড়াই হাজারেরও বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা কোনোভাবেই প্রত্যাহার করা হবে না। শুনানির সময় বিক্ষোভকারীদের আইনজীবীরা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন।

আইনজীবীরা দাবি করেন যে, প্রতিবাদস্থলে ইউনিফর্ম ছাড়া পুলিশকর্মী ও গুন্ডারা অংশ নিয়েছিল এবং আন্দোলন দমাতে পেলেট গান ও লাঠির ব্যবহার করা হয়েছিল। জম্মু ও কাশ্মীরের পর রাজধানীতেও পেলেট গানের ব্যবহার নিয়ে বিশেষ ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি, প্রতিবাদস্থলে মুখমণ্ডলের নজরদারি এবং আধার কার্ডের তথ্য ব্যবহারের মতো বিষয়গুলি নাগরিকদের গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘন করছে কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

আদালতের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা এই সমস্ত অভিযোগ এবং পেলেট গান ব্যবহারের নির্দেশিকা নিয়ে বিস্তারিত জবাব তলব করা হয়েছে। রাজ্যগুলির মুখ্য সচিবদেরও অনলাইনে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁদের এই বিষয়ে হলফনামা দাখিল করতে বলা হয়েছে। এই হাই-প্রোফাইল মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৯শে আগস্ট ধার্য করা হয়েছে। ওই দিন সুপ্রিম কোর্ট এসআইটি-র ভূমিকা, পেলেট গান সংক্রান্ত জবাব এবং রাজ্যগুলি কতগুলি মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তা খতিয়ে দেখবে।