হামিম মণ্ডলের জঙ্গি যোগে নয়া গ্রেফতারি: হানিট্রাপ ও নাশকতার ছকে হাওড়া থেকে আটক আরও এক সহযোগী!

হামিম মণ্ডলের জঙ্গি যোগের তদন্তে নেমে আরও এক সহযোগীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড থেকে আদিত্য সিং ওরফে রাজু নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত আদিত্য সিং হামিম মণ্ডলের অত্যন্ত ঘনিষ্ট। উমেশ রাই এবং তাঁর ছেলেকে হানিট্রাপ করার যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল এই আদিত্য। অভিযোগ রয়েছে, এই ব্যক্তিই হামিমকে উমেশ রাইয়ের ছেলের ছবি এবং ব্যক্তিগত বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করেছিল।
এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘ইনস্টা লাভার্স’ নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের পরিচয় দিত অর্পিতা সরকার ও হামিম মণ্ডল। সম্প্রতি এই দু’জনের কলকাতা সফর ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। তদন্তকারীদের নজরে এসেছে এই বিষয়টি। কোনো সম্ভাব্য নাশকতামূলক অপারেশনের আগে তারা কলকাতায় এসে রেকি করেছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী সংক্রান্ত কিংবা উমেশ রাই সংক্রান্ত কোনো গোপন তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা হয়েছিল কি না, সেই দিকটিও এখন বিশেষ তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
এই পুরো রেকির আসল উদ্দেশ্য কী ছিল, কার বা কাদের সরাসরি নির্দেশে তারা এই কাজ চালাচ্ছিল এবং এর পিছনে কোনো সুসংগঠিত বড় কোনো আন্তঃরাজ্য বা আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক কাজ করছে কি না, তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। ধৃত অর্পিতা এবং হামিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সোশ্যাল মিডিয়া চ্যাট, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং তাদের সমস্ত গতিবিধির তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এই অপরাধমূলক ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে কি না, তাও পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
এরই মধ্যে হামিম ও অর্পিতাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জেরা শুরু করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। তিন সদস্যের একটি বিশেষ এনআইএ দল এই জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে। গত রবিবারই প্রথম দফায় দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, হামিম-অর্পিতা জঙ্গি যোগের এই সংবেদনশীল মামলায় কঠোর ইউএপিএ (UAPA) ধারা যুক্ত করার পরই এনআইএ আধিকারিকরা সক্রিয়ভাবে ময়দানে নেমেছেন। গত রবিবার প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে তাদের জেরা করা হয়। দেশবিরোধী কার্যকলাপে তাদের আসল মোটিভ কী ছিল, তাদের নেপথ্যে মদত জোগাচ্ছে কারা এবং পাকিস্তানের কোন কোন হ্যান্ডলারের নাম এই চক্রের সঙ্গে উঠে আসছে, মূলত এই সমস্ত বিষয়গুলি ঘিরেই জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
উল্লেখ্য, জঙ্গি সন্দেহে ধৃত হামিম মণ্ডলের বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে গত শনিবারই গ্রেফতার করেছিল বেঙ্গল এসটিএফ। এই প্রসঙ্গে আইজি গৌরব শর্মা জানান, এক সিনিয়র রাজনীতিবিদ ও তাঁর ছেলেকে চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে হানিট্রাপের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করেছিল অভিযুক্ত অর্পিতা। পাশাপাশি, অর্পিতা ও হামিমের এই কাণ্ডের সঙ্গে দিল্লির আন্দোলনে পুলিশের ভুয়ো পোশাক জোগাড় করে নাশকতার ছক কষার গভীর যোগও পাওয়া গিয়েছে। আইজি আরও জানান, গোয়েন্দারা খবর পেয়েছিলেন যে একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও তাঁর ছেলেকে এক্সটরশনের জন্য হানিট্রাপের ফাঁদ পাতা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাহেবগঞ্জ থেকে অর্পিতা এই পুরো চক্রটি পরিচালনা করছে এবং এর পেছনেই হামিমের সক্রিয় যোগাযোগ রয়েছে।