NEET পেপার লিক কাণ্ড: আন্দোলনকারী ছাত্রদের স্বস্তি দিল সুপ্রিম কোর্ট, মিলল বড় রায়!

সুপ্রিম কোর্ট সোমবার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্পষ্টীকরণে জানিয়েছে যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে NEET পেপার লিক এবং পরীক্ষার নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর বা মামলাগুলি প্রত্যাহার কিংবা বন্ধ করার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা রাজ্য সরকারগুলির রয়েছে। তবে শর্ত একটাই, এই পদক্ষেপ আইনসম্মত উপায়ে এবং যথাযথ নিয়মের মধ্যে থেকেই করতে হবে। শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আন্দোলনকারী হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীর আইনি লড়াইয়ে বড় স্বস্তি মিলেছে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

বিচারপতিদের বিশেষ বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, যে সমস্ত জায়গায় ছাত্রদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করা আইনসঙ্গত এবং যৌক্তিক বলে মনে হবে, সেখানে রাজ্যগুলি নিজ দায়িত্বে এই পদক্ষেপ করতে পারে। এর ফলে দীর্ঘ আইনি জট থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মুক্ত হতে পারবেন এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার পথ আরও প্রশস্ত হবে। একই সঙ্গে, আদালতের পক্ষ থেকে পূর্বের একটি মন্তব্যের পরিধিও সংশোধন করা হয়েছে। আদালতের তরফ থেকে পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে যে, অপরাধমূলক ইতিহাস সংক্রান্ত পূর্বের শর্তটি মূলত হত্যা, ধর্ষণ, সন্ত্রাসবাদ বা অন্যান্য গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

অর্থাৎ, যে সমস্ত সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র প্রতিবাদ বা সামান্য অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে, তাঁদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যাবে না এবং তাঁরা আদালতের সমস্ত আইনি সুরক্ষার সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। এদিনের শুনানিতে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু পর্যবেক্ষণ পেশ করেছেন। আদালত জানিয়েছে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা পুলিশি কার্যক্রমে বিক্ষোভ দমনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ রোধে সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকা জরুরি। বিশেষ করে আন্দোলন দমাতে প্যালেট গানের ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়ে একটি সুসংহত ও বিস্তারিত প্রোটোকল তৈরি করার তীব্র প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলেও আদালত ইঙ্গিত দিয়েছে।

বেঞ্চের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে বলপ্রয়োগের সীমা এবং সঠিক পদ্ধতি কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে আদালত কঠোর নজরদারি চালাবে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সলিসিটর জেনারেল আদালতকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, সরকার এই সমস্ত বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে আদালতে দ্রুত বিস্তারিত হলফনামা পেশ করা হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মামলাকে অপ্রয়োজনে জটিল না করে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

দিল্লির ঐতিহাসিক জंतर-मंतर এলাকায় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতিসক্রিয়তা এবং বলপ্রয়োগের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এই মামলার শুনানি চলছে। পুলিশ প্রশাসনের জবাবদিহি এবং আন্দোলনকারীদের ওপর করা আইনি পদক্ষেপের বৈধতা নিয়েও বেঞ্চ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই আইনি বিতর্কের পরবর্তী শুনানি আগামী ১৯ আগস্ট ধার্য করা হয়েছে। সোমবার আদালতের এই তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাখ্যার ফলে রাজ্য প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশি তদন্তকারী সংস্থাগুলির কাছে ছাত্র বিক্ষোভ সম্পর্কিত মামলাগুলি পরিচালনার পথ অনেক বেশি পরিষ্কার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।