২০ হাজার টাকায় আলিপুর চিড়িয়াখানার বাঘ হবে আপনার! জেনেনিন দত্তক নেওয়ার নিয়ম?

গল্পের পাতায় গুপী-বাঘার চোখ চড়কগাছ হওয়ার ভয় থাকলেও, বাস্তবের মাটিতে আপনি চাইলে হলদে-কালো ডোরাকাটা রাজকীয় এই প্রাণীকে নিজের মতো করে ‘পোষ মানাতে’ বা স্পনসর করতে পারেন। অবাক লাগলেও এটাই সত্যি! আলিপুর চিড়িয়াখানা নিয়ে এসেছে এমনই এক অভিনব সুযোগ। আপনার যদি বন্যপ্রাণীপ্রেম এবং সাধ্য থাকে, তবে একটা-আধটা বাঘ দত্তক নিতেই পারেন আপনি। তবে হ্যাঁ, শখ থাকলেও সেই বাঘকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই; সে তার নিজের ‘ডেরা’ বা এনক্লোজারেই থাকবে, কিন্তু তার যাবতীয় ভরণ-পোষণের দায়িত্ব থাকবে আপনার কাঁধে।

কীভাবে কাজ করে এই ‘অ্যানিমেল অ্যাডপশন প্রোগ্রাম’?

আলিপুর চিড়িয়াখানার ‘Animal Adoption Programme’ বা ফস্টার অ্যান্ড স্পনসরশিপ প্রকল্পের মাধ্যমে আপনি একটি বাঘের অভিভাবক হতে পারবেন। নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে একটি বাঘের প্রতিদিনের খাবার (হরিণ বা ছাগলের মাংস), চিকিৎসাগত খরচ, গরমের দিনে স্নান করানো ও দৈনন্দিন রক্ষণাবেক্ষণের সমস্ত দায়িত্ব বহন করতে হয়।

বাঘ দত্তক নিতে কত খরচ হয়?

আলিপুর চিড়িয়াখানা থেকে বাঘ দত্তক নেওয়ার জন্য মাসিক ও বার্ষিক—উভয় ধরনের স্কিম রয়েছে:

  • মাসিক স্পনসরশিপের জন্য আপনাকে খরচ করতে হবে ২০ হাজার টাকা প্রতি মাসে।

  • বার্ষিক স্পনসরশিপের জন্য দিতে হবে এককালীন আড়াই লক্ষ টাকা

কারা নিতে পারবেন এই সুযোগ?

এই প্রকল্প শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির জন্য নয়। সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে যেকোনো ব্যবসায়ী, কর্পোরেট সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্লাব ও সামাজিক সংগঠন—সকলেই আলিপুর চিড়িয়াখানার বাঘ বা অন্যান্য বন্যপ্রাণী অ্যাডপ্ট করতে পারেন। যেমন, অতীতে অভিনেতা সপ্তর্ষি মৌলিক এক বছরের জন্য একটি শিম্পাঞ্জির অভিভাবক ছিলেন, আবার রোটারি ক্লাব একটি ফিশিং ক্যাট দত্তক নিয়েছিল। এ ছাড়াও স্কারলেট ম্যাকাউ (বছরে ১০ হাজার), বার্ন পেঁচা (বছরে ৫ হাজার) বা ম্যান্ডারিন হাঁসের মতো পাখিরাও দত্তক নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বাঘ দত্তক নেওয়ার পদ্ধতি ও যোগাযোগ

১. প্রথমে আলিপুর চিড়িয়াখানার অফিসিয়াল নম্বরে (০৩৩-২৪৭৯১১৫০ বা +৯১ ৬২৯২৩৩৬৬৮০) যোগাযোগ করতে পারেন। ২. এ ছাড়া West Bengal Zoo Authority-র অফিশিয়াল ওয়েবসাইট অথবা https://kolkatazoo.in/web/adopt/ লিঙ্কে গিয়ে সমস্ত তথ্য পেয়ে যাবেন। ৩. স্পনসরশিপের মেয়াদ ও নিজের তথ্য জমা দেওয়ার পর নির্দিষ্ট ফি প্রদান করলেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে।

স্পনসরদের জন্য বিশেষ সম্মান ও নিয়ম

দত্তক নেওয়ার পর আপনি বা আপনার প্রতিষ্ঠান অফিসিয়ালি স্পনসর হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। আলিপুর চিড়িয়াখানার Enclosure 68 (Bengal Tiger Enclosure) এবং Enclosure 34 (White Tiger Open Reserve)-এর বাইরের বোর্ডে দত্তক গ্রহণকারী বা স্পনসরদের নাম জ্বলজ্বল করবে। পাশাপাশি চিড়িয়াখানার অফিশিয়াল হাসপাতালেও স্পনসরদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

তবে মনে রাখবেন, বাঘ তার নির্দিষ্ট খাঁচাতেই থাকবে এবং দর্শনার্থীরা নিয়মমতো তাকে দেখতে পাবেন। বাঘের সার্বিক দেখভাল চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষই করবে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেই আলিপুর চিড়িয়াখানার এই অনন্য উদ্যোগ ইতিমধ্যেই দারুণ সাড়া ফেলেছে।