নেতাজীর দেখানো পথে আসানসোল! জেল সুপারের উদ্যোগে সংশোধনাগারের ৪৩৫ জন আবাসিক মেতে উঠলেন মহা-আনন্দে

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ১৯৪০ সালে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে যে দুর্গাপুজোর সূচনা করেছিলেন, এবার সেই ইতিহাসেই নতুন সংযোজন ঘটল। এই প্রথমবার আসানসোল সংশোধনাগারে ধুমধাম করে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হলো। বন্দি জীবনে উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত আবাসিকদের একান্ত অনুরোধেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জেল সুপার চান্দ্রেয়ী হাইতের বিশেষ উদ্যোগে এই পুজো হচ্ছে। সংশোধনাগারের ৪০০ জন বন্দি ও ৩৫ জন মহিলা আবাসিক জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মেতে উঠেছেন এই উৎসবে।

ব্রতী হলেন আবাসিক, ঢাক বাজাচ্ছেন আরেকজন
জেল সুপারের কথায়, আবাসিকরাই উৎসাহ প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন যে বন্দি জীবনে তাঁদের দুর্গাপূজার আনন্দ নেই, তাই জেলের ভেতরেই পুজোর আয়োজন করা হোক। সেই মতো, বাইরে থেকে সমস্ত সামগ্রী নিয়ে আসা হলেও, ভেতরের সমস্ত কাজ সামলে নিচ্ছেন আবাসিকরাই।

পুরুৎ ও ব্রতী: এক কারারক্ষী পুরোহিতের দায়িত্ব নিলেও, পুজোর ব্রতী বা মূল দায়িত্বে রয়েছেন একজন আবাসিক। আরেকজন আবাসিক বাইরে থেকে আনা ঢাক বাজাচ্ছেন।

মহিলা আবাসিকদের ভূমিকা: মহিলা আবাসিকরা একসঙ্গে মিলে আলপনা দিয়েছেন এবং পুজোর জন্য প্রয়োজনীয় ১০৮টি প্রদীপও নিজেদের হাতে বানিয়েছেন।

নিয়ম-নীতি: একচালার সাবেকি প্রতিমা এনে পুজোর সমস্ত নিয়ম-রীতি মেনে পূজা করা হচ্ছে। কারারক্ষীরা নবপত্রিকাকে স্নান করিয়ে এনেছেন এবং অষ্টমীর ১০৮টি পদ্মফুলও আনা হয়েছে।

উৎসবের দিনে বিশেষ মেনু ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
বন্দিদের মুখে হাসি ফোটাতে পুজোর চারদিনের জন্য বিশেষ স্বাদবদলের আয়োজন করা হয়েছে:

তিথি মেনু
সপ্তমী মাছ
অষ্টমী খিচুড়ি ভোগ
নবমী চিলি চিকেন, ফ্রায়েড রাইস
দশমী মাটন

Export to Sheets
এছাড়াও সংশোধনাগারের মধ্যেই আয়োজিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে নাচ, গান ও আবৃত্তিতে অংশ নেবেন আবাসিকরা। জেল সুপার চান্দ্রেয়ী হাইত জানিয়েছেন, বিজয়া দশমীতে মহিলা আবাসিকদের নিয়ে সিঁদুর খেলারও আয়োজন করার ইচ্ছে রয়েছে।

পুরোহিতের দায়িত্ব সামলানো কারারক্ষী বিদ্যুৎ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, আবাসিকদের মধ্যে প্রচণ্ড উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। অনেকেই ভক্তিভরে পুষ্পাঞ্জলি দিচ্ছেন এবং মায়ের কাছে মানত করছেন যেন দ্রুত তাঁদের মুক্তি হয়।