বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ, মুম্বইয়ের যুবকের হাত থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে নজির গড়ল শিলিগুড়ি থানা

সোশ্যাল মিডিয়ায় আলাপ, তারপর প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন! মুম্বই থেকে শিলিগুড়িতে এসে এক কিশোরীকে অপহরণের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তরবঙ্গে। তবে এই অপরাধমূলক পরিকল্পনা সফল হওয়ার আগেই আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে মাত্র এক ঘণ্টার ‘অপারেশন’-এ নাবালিকাকে উদ্ধার করল শিলিগুড়ি থানার পুলিশ। একইসঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে মুম্বইয়ের বাসিন্দা অভিযুক্ত যুবক জামিন খানকে। পুলিশের এই দ্রুত ও তৎপর ভূমিকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে নাবালিকার পরিবার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ি পুরনিগমের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভারতনগর এলাকার বাসিন্দা ওই ১৫ বছরের নাবালিকা রবিবার হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা চারিদিকে খোঁজাখুঁজি করেও মেয়ের হদিশ না পাওয়ায় দেরি না করে সরাসরি শিলিগুড়ি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে শিলিগুড়ি থানার আইসি প্রবীর দত্তের নেতৃত্বে সঙ্গে সঙ্গেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত জামিন খান ওই নাবালিকাকে ফুঁসলিয়ে ট্রেনে করে নিয়ে পালাচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের আশঙ্কা ছিল, নাবালিকাকে মুম্বইয়ে নিয়ে গিয়ে পাচার করে দেওয়ার কোনো বড়সড় উদ্দেশ্য থাকতে পারে অভিযুক্তের। এরপরই তদন্তকারীরা ধৃত যুবকের মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করা শুরু করেন। ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত নাবালিকাকে নিয়ে ডাউন ট্রেনে চেপে মুর্শিদাবাদ জেলার আজিমগঞ্জের দিকে যাচ্ছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শিলিগুড়ি থানার পক্ষ থেকে অবিলম্বে আজিমগঞ্জ জিআরপির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং নাবালিকার ছবি পাঠানো হয়। ট্রেনটি আজিমগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছানো মাত্রই ওত পেতে থাকা জিআরপি কর্মীরা ছবি মিলিয়ে নাবালিকাকে শনাক্ত করেন এবং তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে অভিযুক্তকে আটক করেন।

জেরায় জানা গিয়েছে, প্রায় দু’মাস আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় জামিন খানের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল ওই কিশোরীর। এরপর নিয়মিত ভিডিও কলে কথা হতে হতে সম্পর্কের গভীরতা বাড়ে। ধীরে ধীরে নাবালিকাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাড়ি ছাড়ার জন্য প্ররোচনা দিতে শুরু করেন অভিযুক্ত। সেই পরিকল্পনা মাফিকই মুম্বই থেকে শিলিগুড়িতে এসে পৌঁছন জামিন এবং নাবালিকাকে নিয়ে ট্রেনে রওনা দেন। আজিমগঞ্জ স্টেশনে আটক হওয়ার পর প্রথমদিকে অভিযুক্তের ভয়ের কারণে নাবালিকা পুলিশকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু টানা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ভেঙে পড়ে সে সমস্ত সত্য স্বীকার করে।

সোমবার রাতেই ধৃত অভিযুক্তকে মুর্শিদাবাদ থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে শিলিগুড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া নাবালিকার নিয়মমাফিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পর তাকে আপাতত একটি সরকারি হোমে রাখা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার এই ফাঁদ এবং এর পেছনে কোনো বড়সড় পাচারচক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে গোটা ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে শিলিগুড়ি থানার পুলিশ। অভিভাবকদের সতর্ক থাকার বার্তা দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, অনলাইনের বন্ধুত্বের আড়ালে থাকা বিপজ্জনক ফাঁদ থেকে সতর্ক থাকাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।