“আপনাদের দায়িত্ব আমাদের!” তারাতলায় দুর্ঘটনায় মৃত ও আহতদের পরিবারকে বড় প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রীর

তারাতলার ভয়াবহ বিপর্যয়ে স্বজনহারা পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে মানবিকতার বার্তা নিয়ে এগিয়ে এল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার নবান্ন সভাঘরে এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তারাতলা কাণ্ডে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সাহায্যের চেক তুলে দেন। পাশাপাশি, কেবল এককালীন ক্ষতিপূরণই নয়, বরং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে মাসিক আর্থিক সাহায্যের আওতায় আনা যায় কি না, তা নিয়ে প্রশাসন সক্রিয়ভাবে চিন্তাভাবনা করছে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

গত ২৪ জুন দুপুরে তারাতলার বেসব্রিজের কাছে একটি নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ে ঘটেছিল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সেই সময় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক সেখানে কর্মরত ছিলেন। এই বিপর্যয়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই শোকের আবহেই মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট করেছেন, আহতদের চিকিৎসার সমস্ত দায়িত্ব বহন করবে রাজ্য সরকার। ভবিষ্যতে যদি তাঁদের আরও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হয় বা নিয়মিত ওষুধের প্রয়োজন পড়ে, তবে সেই পুরো খরচই দেবে রাজ্য।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন এক ধাপ এগিয়ে জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারের সদস্য এবং দুর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের বিষয়েও সরকার আন্তরিক। কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা পুলিশের অধীনে তাঁদের জন্য কোনো অস্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। নবান্ন সভাঘরের অনুষ্ঠানে আবেগঘন কণ্ঠে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা ১৭ জনকে বাঁচাতে পেরেছি, ১৬ জনকে বাঁচাতে পারিনি। আমরা সবাইকেই বাঁচাতে পারলে খুশি হতাম। আমি জানি আপনারা অর্থনৈতিকভাবে বিধ্বস্ত। কিন্তু মনে রাখবেন, সরকার আপনাদের সবসময় পাশে আছে।”

উদ্ধারকার্যে তৎপরতার প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা, সেনাবাহিনী, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF) একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বলেই ১৭টি প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। এসএসকেএম হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসার গুণগত মানেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

তবে এদিনও বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করতে ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের ভুল নীতি এবং অপরিকল্পিত নির্মাণের কারণেই তারাতলায় এত বড় বিপর্যয় ঘটেছিল। তিনি বলেন, “অবহেলা আর দুর্নীতির ফল আজ এই পরিবারগুলোকে ভুগতে হচ্ছে।”

গোটা বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকার যে গভীর সংবেদনশীলতা দেখাচ্ছে, তা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তারাতলা কাণ্ডের পর থেকে বিরোধী দলগুলো সরকারের সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল, যার পাল্টা হিসেবেই এই আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতিকে ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবে দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, খুব শীঘ্রই মাসিক ভাতার এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত রূপ নিতে চলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মুখে কিছুটা হলেও হাসি ফোটানোই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।