RSS-এর ১০০ বছরের যাত্রা ‘অভূতপূর্ব ও অনুপ্রেরণামূলক’, বিজয়া দশমীর পূণ্যলগ্নে সংঘকে কেন এত প্রশংসা করলেন মোদী?

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে, ১ অক্টোবর, ২০২৫-এ নতুন দিল্লির ডঃ আম্বেদকর আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে সকাল ১০:৩০ মিনিটে তিনি এই ঐতিহাসিক উদযাপনে অংশ নেবেন।
এই উপলক্ষে, প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতি আরএসএস-এর অবদান তুলে ধরে একটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা স্মারক ডাকটিকিট এবং মুদ্রা প্রকাশ করবেন এবং সমাবেশে ভাষণও দেবেন।
‘মন কি বাত’-এ মোদীর প্রশংসা: এক শতাব্দীর অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা
এর আগে রবিবার, ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আরএসএস-এর এক ‘অভূতপূর্ব এবং অনুপ্রেরণামূলক’ যাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “এই বিজয়া দশমী আরও একটি কারণে খুব বিশেষ। এই দিনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রতিষ্ঠার ১০০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এই এক শতাব্দীর যাত্রা যেমন আশ্চর্যজনক, তেমনই অভূতপূর্ব এবং অনুপ্রেরণামূলক।”
আরএসএস-এর প্রাক্তন সদস্য প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও উল্লেখ করেন যে স্বাধীনতার আগে পরিচয় সংকটের মধ্যে সংঘ গঠিত হয়েছিল। তিনি বলেন:
“১০০ বছর আগে, যখন আরএসএস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তখন দেশ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিল। এই শতবর্ষব্যাপী দাসত্ব আমাদের আত্মসম্মান এবং আত্মবিশ্বাসকে গভীরভাবে আঘাত করেছিল। বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতা একটি পরিচয় সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল।”
তিনি ডঃ কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের নেতৃত্বে ১৯২৫ সালে বিজয়া দশমীর শুভ মুহূর্তে সংঘ প্রতিষ্ঠার কথা স্মরণ করেন এবং ‘দেশ প্রথম’ নীতির প্রশংসা করেন।
জাতীয় চরিত্র গঠন ও সেবায় RSS-এর ভূমিকা
১৯২৫ সালে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে প্রতিষ্ঠিত আরএসএস একটি স্বেচ্ছাসেবক-ভিত্তিক সংগঠন হিসেবে শুরু হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল নাগরিকদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সচেতনতা, শৃঙ্খলা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগানো। সংঘের মূল লক্ষ্য হলো দেশপ্রেম এবং জাতীয় চরিত্র গঠন।
গত এক শতাব্দী ধরে, আরএসএস শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সমাজকল্যাণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ত্রাণ কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আরএসএস-এর এই শতবার্ষিকী উদযাপন কেবল এর ঐতিহাসিক সাফল্যকেই সম্মান জানায় না, বরং ভারতের সাংস্কৃতিক যাত্রায় এর স্থায়ী অবদান এবং জাতীয় ঐক্যের বার্তাকেও তুলে ধরে।