আলিপুরদুয়ারের এই মণ্ডপে ভোর না হওয়া পর্যন্ত কেউ ফেরে না! কেন সারারাত মেতে থাকে তুরতুরী বেলতলা?

শারদোৎসবে আনন্দ আর হাতির উপদ্রবের ভয়—এই দুইয়ের এক অদ্ভুত সহাবস্থান দেখা যায় আলিপুরদুয়ারের তুরতুরী বেলতলার দুর্গাপূজা মণ্ডপে। ভুটান পাহাড়, চা-বাগান এবং বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলের মাঝে আদিবাসী অধ্যুষিত এই এলাকার একমাত্র পুজো এটি। কিন্তু এই প্রত্যন্ত এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো হাতির আনাগোনা। রাত-বিরেতে বাড়ি ফেরার পথে হাতির হামলার আশঙ্কায় দর্শনার্থীরা তাই এক অভিনব উপায় খুঁজে নিয়েছেন।

এখানে যতক্ষণ না ভোরের আলো ফুটছে, ততক্ষণ একজনও বাড়িমুখো হন না!

দর্শনার্থীদের সুরক্ষায় রাত জাগে কমিটি
তুরতুরী বেলতলা দুর্গাপূজা কমিটির সম্পাদক কেষ্টরঞ্জন চৌধুরী জানান, তাঁদের এই পুজো ৫২ বছর অতিবাহিত করেছে। এখানে প্রায় দিনই হাতির আক্রমণ হয়। তাই দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের সুরক্ষার কথা ভেবেই এই ব্যবস্থা।

সারারাত মেলা: পুজো কমিটির সদস্যরা দর্শনার্থীদের মনোরঞ্জনের জন্য সারারাত ধরে মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

সতর্কতা: কেষ্টরঞ্জনবাবু বলেন, “আমরা যে লোকজনকে রাতে ছাড়ব, তারপর রাস্তায় যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, সেই দায়িত্ব কে নেবে? তাই আমাদের সদস্যরা ও এলাকাবাসীরা সারারাত দর্শনার্থীদের জন্য রাত জেগে থাকি।”

আগে এখানে পুজোর চারদিন সিনেমা দেখানো হলেও, এখন ডিজিটাল যুগে সেই আকর্ষণ কমেছে। তাই এখন প্রধান গুরুত্ব দেওয়া হয় রাতভর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলায়। কমিটির সদস্য দেবাশিস সিকদার জানান, ২০-৩০ কিলোমিটার দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষজন এই মেলা দেখতে আসেন।

বন দফতর ও পুলিশের বাড়তি নজরদারি
দর্শনার্থীরাও জানেন, ভোরের আলো ফোটার পরই হাতির ভয় অনেকটা কাটে। ঝন্টু রবিদাস নামে এক দর্শনার্থী বলেন, “আমরা মেলায় সারারাত কাটিয়ে ভোরের আলো ফোটার পর বাড়ি ফিরি। তাতে হাতির ভয় অনেকটা কাটবে।”

এদিকে, বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের নর্থ রায়ডাক রেঞ্জের রেঞ্জার শ্যামল মণ্ডল জানিয়েছেন, তুরতুরীর বেলতলার পুজোর জন্য তাঁদের বাড়তি নজরদারি চালাতেই হয়। দিনরাত কর্মীরা নিরাপত্তার জন্য তৈরি থাকেন, যাতে হাতির হানায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

এক কথায়, এই এলাকার পুজো উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য শুধু পুজো নয়, দর্শনার্থীদের সুস্থভাবে বাড়ি ফেরানো।