“এটি কেবল অপরাধ নয়, বিশাল চক্র!” বারুইপুরে পৌঁছে কঠোর বার্তা সায়নীর, দাবি মৃত্যুদণ্ডের

ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পর বারুইপুরের নাবালিকা নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অবশেষে সরব হলো শাসকদলের অন্দরের ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ শিবির। মঙ্গলবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল বারুইপুরে পৌঁছালে এলাকায় তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। প্রতিনিধি দলে ছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ সায়নী ঘোষ, কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো নেতারা। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া বেশ কয়েকজন সাংসদ।
ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেই পুলিশের সাথে প্রতিনিধি দলের সদস্যদের তীব্র বচসা শুরু হয়। এলাকায় প্রবেশ ও পরিবারের সঙ্গে দেখা করা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ টানাপোড়েন চলে। শেষপর্যন্ত স্থানীয় সাংসদ হিসেবে সায়নী ঘোষকে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেয় পুলিশ। সায়নী দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন শোকস্তব্ধ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। তিনি তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং ঘটনার সত্যনিষ্ঠ তদন্তের দাবি জানান।
পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সায়নী ঘোষ বলেন, “আমরা আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটাই প্রত্যাশা করছি—ঘটনার যথাযথ ও সত্যনিষ্ঠ তদন্ত হোক। যাঁরা দোষী, তাঁদের কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত।” তিনি আরও যোগ করেন, “এটি কেবল দুই-তিনজন ব্যক্তির অপরাধ নয়, এর পেছনে একটি বিশাল চক্র রয়েছে। আমাদের ভবিষ্যতের জন্য মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হবে। আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাব, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি, এমনকি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা হোক।”
প্রতিনিধি দলের বাকি সদস্যরা নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে না পারলেও, বাইরে অপেক্ষা করে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখেন। পরে কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীই তাঁদের সরাসরি ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন। তিনি বলেন, “এমন নৃশংস অপরাধের ঘটনায় রাজ্য সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে প্রশাসন সবরকম সক্রিয়তা দেখাচ্ছে।”
কাকলি আরও বলেন, “আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। এই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করা এখন আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা চাই তদন্ত দ্রুত শেষ হোক এবং অপরাধীরা উপযুক্ত শাস্তি পাক।” উল্লেখ্য, বারুইপুরের এই ঘটনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। বিরোধী দলগুলিও ঘটনার দায় নিয়ে প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের এই প্রতিনিধি দলের সফর রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোটা তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে চলছে। দোষীরা যাতে কোনোভাবেই ছাড়া না পায়, তার জন্য সবরকম আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের তরফে আশ্বস্ত করা হয়েছে। নির্যাতিতার পরিবারকে সবরকম আইনি ও প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার, এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝে তদন্ত কত দ্রুত ন্যায়বিচারের দিকে এগিয়ে যায়।