‘১০০ কোটির অপারেশন’ বিজেপির! কংগ্রেসের ভোট কাটতেই কি ডামি দলের উত্থান?

তৃণমূলের ভাঙন কিংবা শিবসেনার অস্তিত্ব সংকট—রাজনীতির আঙিনায় এমন খবর নতুন নয়। কিন্তু এবার কি কংগ্রেসেও বড় ভাঙন ধরল? এই প্রশ্নই এখন গোয়ার রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে চর্চিত বিষয়। কারণ, রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক কয়েক মাস আগে ‘গোয়া কংগ্রেস পার্টি’ নামের একটি নতুন দলের আবির্ভাব ঘটেছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে নাম নথিভুক্ত করার আবেদন জানিয়েছে এই নতুন সংগঠন। এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র বাগযুদ্ধ।

কংগ্রেসের অভিযোগ, তাদের নাম ব্যবহার করে ভোটারদের বিভ্রান্ত করতেই বিজেপি এই ‘ডামি’ বা নামসর্বস্ব দলটি তৈরি করেছে। গত সপ্তাহে স্থানীয় সংবাদপত্রে এই দলের বিজ্ঞাপন প্রকাশের পরই গোয়া প্রদেশ কংগ্রেসের অন্দরে অস্বস্তি তুঙ্গে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গিরীশ ছোন্ডকরের দাবি, বিজেপি নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে ‘১০০ কোটি টাকার অপারেশন’ চালাচ্ছে। গিরীশের কথায়, “ভোটের আগে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার আঁচ পেয়ে বিজেপি পুরনো ফর্মুলায় ফিরেছে। হয় নতুন দল তৈরি করছে, নয়তো কাউকে মদত দিচ্ছে। কিন্তু গোয়ার মানুষ সচেতন, তাঁরা বিজেপির এই ফাঁদে পা দেবেন না।”

কংগ্রেসের অন্দরের এই অস্বস্তির নেপথ্যে রয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। গত ২৯ মে অমিত পাটকরকে সরিয়ে গিরীশ ছোন্ডকরকে প্রদেশ সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর গিরীশকে ফিরিয়ে আনায় কর্মীদের একাংশ খুশি নন। এরই মধ্যে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে প্রদেশ কংগ্রেসের এক নেতাকে সাসপেন্ড করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

অন্যদিকে, ‘গোয়া কংগ্রেস পার্টি’র সভাপতি ফ্রান্সিসকো অ্যান্টোনিও জাসিন্টো এবং অন্যান্য নেতারা কংগ্রেসের সঙ্গে কোনো যোগ থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। দলের এক নেতার দাবি, “আমরা বছরের পর বছর দলকে উৎসর্গ করেছি। কিন্তু যাঁদের নিঃস্বার্থ পরিশ্রমের ওপর দল দাঁড়িয়েছিল, তাঁদের আজ কোণঠাসা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন বিকল্প খুঁজছেন।” তাঁদের মতে, আম আদমি পার্টি, তৃণমূল এবং কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ কর্মীদের নিয়ে তৈরি এই আঞ্চলিক শক্তি দিল্লির নির্দেশে চলবে না। কেন নাম ‘গোয়া কংগ্রেস পার্টি’? তাঁদের সাফ উত্তর—কংগ্রেসের সমমনা মানুষ এবং প্রাক্তন কংগ্রেস কর্মীদের একত্রিত করতেই এই নামকরণ।

বিজেপি অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলের মুখপাত্র সিদ্ধেশ নায়েক স্পষ্ট জানিয়েছেন, গিরীশ ছোন্ডকরের নেতৃত্বেই কংগ্রেস দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং দলত্যাগ বেড়েছে। বিজেপির দাবি, কংগ্রেস নিজের ঘরের আগুন সামলাতে না পেরে অহেতুক বিজেপির ওপর দোষ চাপানোর রাজনীতি করছে।

গোয়ার ৪০টি বিধানসভা আসনের সমীকরণে কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা এখন ৩-এ নেমে এসেছে। ২০২২-এ ১১ জন জয়ী হলেও ৮ জন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এই ভাঙনের আবহে নতুন ‘গোয়া কংগ্রেস পার্টি’র উত্থান কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্কে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার। নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত নতুন এই দলকে স্বীকৃতি দেয় কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে গোয়ার ভবিষ্যৎ রাজনীতির বড় সমীকরণ। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, নাম আর আদর্শের এই লড়াইয়ে গোয়ার রাজনৈতিক আঙিনা এখন চূড়ান্ত উত্তপ্ত।