চার্টার্ড বিমানে শাসকদলের ভিভিআইপি সফর? ইডির নজরে এবার বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন!

তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত মামলার তদন্তে মঙ্গলবার সকাল থেকেই বড়সড় অভিযানে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এদিন কলকাতা ও সল্টলেক মিলিয়ে মোট পাঁচটি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালিয়েছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। বিশেষ সূত্রে খবর, লালবাজার সংলগ্ন মধ্য কলকাতার একটি ঠিকানা ছাড়াও সল্টলেকের সিজি ব্লকের এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও দীর্ঘক্ষণ ধরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, সল্টলেকের ওই ব্যবসায়ী একাধিক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। যার মধ্যে অন্যতম হলো চার্টার্ড বিমান পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন’। ইডি আধিকারিকদের দাবি, অতীতে এই সংস্থা তৎকালীন শাসকদলের একাধিক ভিভিআইপি নেতাকে চার্টার্ড বিমান পরিষেবা দিয়েছিল। সেই পরিষেবার বিনিময়ে আর্থিক লেনদেন কীভাবে হয়েছে, নথিপত্র কী বলছে এবং কোনো বেআইনি টাকা এখানে খাটানো হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

এই তদন্তের নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিল বিতর্ক। বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে দলীয় নেতৃত্বের টানাপোড়েনের আবহে প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখে দলের কয়েকটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানিয়েছিলেন। ওই চিঠিতে তাঁর পদবি উল্লেখ করা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। তবে ঘটনার মোড় ঘুরে যায় গত ১৮ জুন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক বিধায়ক বিধাননগর সাইবার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, বড় ধরনের সাইবার প্রতারণার টাকা কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে, যার মধ্যে তৃণমূলের কিছু অ্যাকাউন্টও থাকতে পারে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করার পর ইডি মামলার তদন্তভার নিজের হাতে তুলে নেয়।

মঙ্গলবার তল্লাশি অভিযান মূলত ওই সাইবার প্রতারণার অর্থের গতিপথ খুঁজে বের করারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। চার্টার্ড বিমান সংস্থার আর্থিক নথিপত্রের সঙ্গে এই মামলার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে তদন্তকারীরা মরিয়া। এই তল্লাশির গুরুত্ব রাজনৈতিকভাবেও অপরিসীম, কারণ শাসকদলের অন্দরেই ঋতব্রত শিবির এবং কালীঘাট শিবিরের মধ্যে চার্টার্ড বিমানে নেতাদের যাতায়াত নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছিল। ইডির আজকের অভিযান সেই বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিল।

যদিও তদন্তের স্বার্থে ইডির তরফে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি, তবে আধিকারিকদের মতে, সাইবার জালিয়াতির টাকা কীভাবে কোথায় সরিয়েছে, তার ম্যাপ তৈরি করাই এখন মূল লক্ষ্য। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এই আর্থিক জট কতটা গভীর, তা খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান জোরদার করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।