শীতকালীন অধিবেশনের আগেই কংগ্রেসের ময়নাতদন্ত! বিহার ভোটে ভরাডুবি, ভোটচুরির অভিযোগে অনড় রাহুল গান্ধী

বিহার বিধানসভা নির্বাচনে দলের শোচনীয় ভরাডুবির পরদিনই কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে এক জরুরি পর্যালোচনা বৈঠক ডাকেন। শনিবার তাঁর দিল্লির বাসভবনে আয়োজিত এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল এবং প্রবীণ নেতা অজয় মাকেনের মতো শীর্ষ নেতৃত্ব।

মহাসংকটে কংগ্রেস: বিহারের ভোটফলে NDA জোট বিরোধীদের মহাগাঁটবন্ধনকে কার্যত পিষে দেওয়ায় জাতীয় রাজনীতিতে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের ভবিষ্যৎ এবং কংগ্রেসের লাগাম নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই বিধানসভা ভোটে দল ও জোটের বিপর্যয় নিয়ে ‘ময়নাতদন্ত’ করতে এদিন জরুরি আলোচনা সারলেন খাড়্গে।

ভোটের ফল একনজরে: পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিজেপি ২০২০ সালের তুলনায় ৭৪টি থেকে বাড়িয়ে ৮৯টি আসনে জিতেছে। নীতীশ কুমারের জেডিইউ ৪৩ থেকে ৮৫ আসনে জয়ী হয়েছে। অন্যদিকে, আরজেডি-র আসন সংখ্যা ৭৫ থেকে কমে ২৫-এ নেমে এসেছে। কংগ্রেসকে ৬১টি আসনে লড়ে মাত্র ৬টি আসনেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। যা আগেরবারের ১৯ জন বিধায়কের সংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত কম।

রাহুল গান্ধীর অভিযোগ: ভোটের ফলের পরই রাহুল গান্ধী ভোটচুরি ও অস্বচ্ছ ভোটের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সর্বভারতীয় বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ ব্লকে এই বিষয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করা হবে এবং গণতন্ত্র রক্ষায় আরও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই মুহূর্তে কংগ্রেসের ভাবমূর্তি রক্ষা করাই প্রধান কর্তব্য। সে কারণেই শীতকালীন অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই দলের অভ্যন্তরীণ রণকৌশল ছকে ফেলতে এই জরুরি বৈঠক।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শাসক জোটের চাপ এবং রাহুল গান্ধীর সাংগঠনিক ব্যর্থতা নিয়ে আসন্ন অধিবেশনে কংগ্রেসকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করবে এনডিএ। তাই প্রধানত কর্মীদের বিশেষ বার্তা দেওয়ার আগে খাড়্গে তাঁর বাড়িতে গুটিকতক নেতাকে নিয়ে আপাতত রণনীতি তৈরি করে ফেললেন বলে অনুমান।