নদীর ওপর ভাসাপুল পার হওয়ার ঝুঁকি! পুরুলিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেল বেসরকারি বাস

বুধবার সকালের চিত্রটা ছিল আতঙ্কের। পুরুলিয়ার বরাবাজার ব্লকের কুমারী নদীর ফতেপুর-তসরবাঁকি নদীঘাটে এক ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল এলাকাবাসী। এদিন একটি বেসরকারি বাস নদীর ওপর অবস্থিত কজওয়ে বা ভাসাপুল পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু নদীর জল ভাসাপুলের ওপর দিয়ে বইছিল বলে রাস্তা ছিল পিচ্ছিল এবং বিপজ্জনক। সেই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়েই নিয়ন্ত্রণ হারান চালক। ফলস্বরূপ, বাসটি সোজা গিয়ে পড়ে নদীর নিচে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ওই সময় বাসে কোনো যাত্রী ছিলেন না। চালক ও খালাসি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার পর প্রশাসন ওই কজওয়ে দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে।
তবে রাস্তা ও সেতুর বেহাল দশা নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার খবর আসছে। গত মাসেই বর্ধমান-তারকেশ্বর রুটের একটি বাস ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। বর্ধমান থেকে তারকেশ্বর যাওয়ার পথে আদমবাঁধ এলাকায় বাসটির পাতি ভেঙে যায়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি রাস্তার পাশে নয়ানজুলিতে উল্টে যায়। সেই দুর্ঘটনায় দুই মহিলার মৃত্যু হয়, যাঁদের নাম লক্ষ্মী মুর্মু ও শর্মিলা সরেন। তাঁরা তারকেশ্বরে জল ঢালার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণেই এই মর্মান্তিক মৃত্যু। এছাড়া উদ্ধারকাজে ক্রেন ও অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।
একইভাবে উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার হাসিমারায় ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের তোর্ষা সেতুতেও সাতসকালে ঘটেছিল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। একটি কন্টেনার ট্রাক ও টিপার ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, কন্টেনার ট্রাকটি সেতু থেকে ছিটকে নিচে নদীতে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই চালকের মৃত্যু হয়। বারবার এমন দুর্ঘটনা প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে রাস্তার নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো নিয়ে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে আরও বড় বিপদ ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।