বিশ্বকাপ জয়ের চার মাস পরেই চরম বিপর্যয়! শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বে মুখ থুবড়ে পড়া টিম ইন্ডিয়াকে নিয়ে গম্ভীরের সাফাই

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের চার মাস পেরোতেই যেন বদলে গেল ভারতীয় দলের ছবি। বিশ্বজয়ী সেই অপ্রতিরোধ্য ভারত আজ যেন নিজেদের ছায়া। নতুন অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে জয়ের খাতা খুলতে ব্যর্থ টিম ইন্ডিয়া। চার ম্যাচ হারের পর একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত—পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এটিই ভারতের সবচেয়ে বড় ধাক্কা। ইংল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ডের মাটিতে ভারতীয় ব্যাটারদের চূড়ান্ত ব্যর্থতা আর বোলারদের লাইন-লেন্থহীন পারফরম্যান্স ক্রিকেট প্রেমীদের মনে প্রশ্ন তুলেছে, তবে কি বিশ্বকাপের পর এই টিম ইন্ডিয়া পুরোপুরি দিশাহীন?
ইংল্যান্ডের প্রতিকূল কন্ডিশন, পিচের আচরণ এবং হাওয়ার গতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারার অজুহাত দীর্ঘায়িত হচ্ছে। ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং দল নির্বাচন নিয়েও উঠেছে বিস্তর অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে দলের হেড কোচ গৌতম গম্ভীর ফের একবার ‘ট্রানজিশন’ বা রূপান্তরের তত্ত্বে আশ্রয় নিলেন। তার দাবি, দল এখন একটি ‘রিসেট’ বাটন টিপে নতুন করে গড়ার পর্যায়ে রয়েছে।
গম্ভীরের কথায়, “আমরা ভাল খেলিনি, এটা সত্যি। কিন্তু চার ম্যাচ হারলেই একটা দল খারাপ হয়ে যায় না। আমরা একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। ১৫ বছরের ক্রিকেটার ওপেন করছে, হর্ষিত রানা চোট সারিয়ে ফিরছে, প্রিন্স যাদবের মতো তরুণরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই রূপান্তরের পর্বে কিছুটা সময় তো লাগবেই।” তিনি আরও যোগ করেন, ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলতে গেলে প্লেয়ারদের প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
তবে প্রশ্ন উঠছে, এই ‘রিসেট’ কি কেবল ব্যর্থতা ঢাকার ঢাল? ২০২৪ এবং ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী দলের অনেক অভিজ্ঞ সদস্য এখন দলের বাইরে। যশপ্রীত বুমরা, হার্দিক পাণ্ডিয়া, সূর্যকুমার যাদব বা সঞ্জু স্যামসনদের অনুপস্থিতিতে দলের ভারসাম্য যে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে, তা স্পষ্ট। অথচ গম্ভীর এই পরিবর্তনকে দলের উন্নতির সিঁড়ি হিসেবেই দেখছেন।
এই চরম দুঃসময়ে একমাত্র আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছেন তরুণ পেসার প্রিন্স যাদব। তার বোলিং পারফরম্যান্স নিয়ে উচ্ছ্বসিত কোচ গম্ভীর। তিনি বলেন, “প্রিন্স তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই যে মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে, তা প্রশংসাযোগ্য। ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন-আপের বিরুদ্ধে ডেথ ওভারে ওর বোলিং আগামী দিনের জন্য বড় ইতিবাচক দিক।”
বৃহস্পতিবার সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নামবে ভারত। এই ম্যাচ হারলে সিরিজ খোয়ানোর পাশাপাশি চরম অস্বস্তিতে পড়বে বিসিসিআই। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তকমাটা কি রক্ষা করতে পারবে শ্রেয়সের দল? নাকি গম্ভীরের ‘রিসেট’ তত্ত্বে আরও হারের সাক্ষী থাকবে ভারত? উত্তর মিলবে মাঠেই।