থানার অর্ধেক ভবন ধূলিসাৎ, ৩০০ ফুট দূরে মিলল দেহাংশ! ৩০০০ কেজি বিস্ফোরক পরীক্ষার সময় কী ঘটেছিল?

শুক্রবার গভীর রাতে শ্রীনগরের নওগাঁও থানায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণে গোটা উপত্যকা স্তম্ভিত। এই ঘটনায় মোট ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৭ জনই পুলিশ কর্মী। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে থানার অর্ধেক ভবন ধসে গেছে এবং ৩০০ ফুট দূরে পর্যন্ত দেহাংশ ছিটকে পড়েছিল। এই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র রহস্য ও বিতর্ক।

ডিজিপির দাবি: ‘নিছক দুর্ঘটনা’ জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের মহাপরিদর্শক (DGP) নলিন প্রভাত শনিবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “নওগাঁও থানায় হওয়া বিস্ফোরণের সঙ্গে সন্ত্রাসের কোনো যোগ নেই।” তাঁর দাবি, এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণ। ডিডিপির বক্তব্য অনুসারে, তদন্তের অংশ হিসেবে ৯ ও ১০ নভেম্বর ফরিদাবাদ থেকে উদ্ধার করা প্রায় ৩০০০ কেজি বিস্ফোরক, রাসায়নিক ও বোমা তৈরির সরঞ্জামের ফরেন্সিক পরীক্ষা চলছিল। এফএসএল (FSL) টিম সতর্কতা সত্ত্বেও নমুনা সংগ্রহের সময় রাত ১১টা ২০ মিনিটে এই ‘অস্থিতিশীল বিস্ফোরক সামগ্রী’ থেকে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে।

দায় স্বীকার করল নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন: তবে তদন্তকে অন্যদিকে মোড় দিয়েছে পাকিস্তান ভিত্তিক জৈশ-ই-মহম্মদ-এর প্রক্সি সংগঠন পিপলস অ্যান্টি ফ্যাসিস্ট ফ্রন্ট (PAFF)। এই নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদী সংগঠনটি বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে। এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এটি কি সত্যিই নিছক দুর্ঘটনা, নাকি একটি সুপরিকল্পিত নাশকতা?

দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ও আইইডি জল্পনা: পুলিশের স্পষ্ট বক্তব্যের পরও ঘটনাস্থলের ধ্বংসস্তূপ ঘেঁটে তদন্তকারীদের সামনে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা। কিছু সাক্ষীর দাবি, ধ্বংসস্তূপের প্রকৃতি দেখে মনে হচ্ছে সেখানে দু’টি বিস্ফোরণ হয়ে থাকতে পারে। এর পাশাপাশি, থানার ভেতরে রাখা বাজেয়াপ্ত একটি গাড়িতে আইইডি (IED) বসানো ছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নিহতদের তালিকায় স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির ১ কর্মী, ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির ৩ সদস্য, ২ জন ক্রাইম সিন ফটোগ্রাফার, ২ জন রাজস্ব কর্মী এবং তদন্তকারী টিমের সঙ্গে যুক্ত এক দর্জি রয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী ও স্নিফার ডগ মোতায়েন করা হয়েছে। একদিকে পুলিশের ‘দুর্ঘটনা’র দাবি, অন্যদিকে নিষিদ্ধ সংগঠনের ‘দায় স্বীকার’ এবং সম্ভাব্য আইইডি-র ইঙ্গিত—সব মিলিয়ে নওগাঁও বিস্ফোরণের নেপথ্যে বড় কোনও জঙ্গি ছক লুকিয়ে আছে কি না, এখন সেটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন।