চন্দা চুরির অভিযোগ নিয়ে সরব গোপাল রাও: ‘সব দান সুরক্ষিত আছে, চাইলে যাচাই করতে পারেন’

অযোধ্যা রাম মন্দিরে দান সংক্রান্ত জালিয়াতির তদন্তের আবহে বুধবার ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ গোবিন্দ দেব গিরির সাথে দেখা করলেন গোপাল নগরকट्टे ওরফে গোপাল রাও। সাম্প্রতিক বিতর্ক ও নিজেকে ট্রাস্ট থেকে অপসারণের জল্পনা নিয়ে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

গোপাল রাওয়ের বয়ান: জল্পনা ও বাস্তবতা

বৈঠক শেষে বেরিয়ে গোপাল রাও দাবি করেন যে, তাঁকে ট্রাস্ট থেকে অপসারণ করা হয়নি। তিনি বলেন, “আমাকে ট্রাস্ট থেকে সরানো হয়নি। আমি রয়েছি। কেবল কিছু সময়ের জন্য আমাকে বৈঠকের বাইরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, কিছু মহল থেকে তাঁকে ও ট্রাস্টের অন্যান্য কর্মকর্তাদের (চম্পত রাই, অনিল মিশ্র) জড়িয়ে মিথ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “আমাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অনিয়মের প্রমাণ মেলেনি।”

‘দান সম্পূর্ণ নিরাপদ’

দান সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে গোপাল রাও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন:

  • স্বচ্ছতা: তিনি জানিয়েছেন, যে কোনো দাতা চাইলে নিজের দানের বিষয়টি যাচাই করতে পারেন।

  • ডুপ্লিকেট রসিদ: যদি কারো কাছে আসল রসিদ না থাকে, তবে তিনি ট্রাস্ট থেকে রসিদের প্রতিলিপি সংগ্রহ করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারেন। ট্রাস্টের কাছে প্রতিটি দানের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষিত আছে বলে তিনি দাবি করেন।

কে এই গোপাল রাও?

কর্ণাটকের উত্তর কন্নড় জেলার বাসিন্দা গোপাল রাও পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। ২০২০ সালে অযোধ্যায় আসার পর তিনি অ্যাসিস্ট্যান্ট কনস্ট্রাকশন ইনচার্জ এবং পরবর্তীকালে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক গোপাল রাও রাম মন্দির ট্রাস্টের চম্পত রাইয়ের পরেই অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। মন্দির চত্বরের যাবতীয় আয়োজন, প্রসাদ ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে পুরোহিতদের দেখভাল—সব বিষয়েই তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

এদিকে, মন্দিরের দানের টাকা চুরির ঘটনা সামনে আসার পর ইতিমধ্যে নৈতিকতার খাতিরে ট্রাস্টের দু’জন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। সিট (SIT)-এর প্রাথমিক রিপোর্টে আরও অনেকের নাম উঠে আসায় ঘটনাটি নিয়ে তদন্তের জাল আরও বিস্তৃত হচ্ছে।