‘একটাও গাড়ি খারাপ হলে প্রমাণ দিন!’ ই২০ জ্বালানি নিয়ে সব জল্পনা উড়িয়ে দিলেন নীতিন গড়কড়ি

দেশজুড়ে ইথানল মিশ্রিত পেট্রল বা ‘E20’ জ্বালানি নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিলেন কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি। গত কয়েকদিন ধরে একদল গাড়িচালক ও বিশেষজ্ঞ দাবি করছিলেন যে, এই জ্বালানি গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি করছে এবং মাইলেজ কমিয়ে দিচ্ছে। মঙ্গলবার ‘বিকশিত ভারত কনক্লেভ’-এ দাঁড়িয়ে এই সমস্ত অভিযোগকে একযোগে ‘ভুয়ো ন্যারেটিভ’ এবং ‘পেড ক্যাম্পেইন’ বলে উড়িয়ে দিলেন মন্ত্রী।

গড়কড়ি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “ইথানল মিশ্রিত পেট্রল ব্যবহার করার কারণে দেশের একটিও গাড়ি যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তবে তার প্রমাণ আমাকে দিন। আমি এই ধরণের বিভ্রান্তিমূলক প্রচারের তীব্র নিন্দা করছি।” তাঁর মতে, স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে এই প্রচার চালাচ্ছে যাতে ইথানল ব্লেন্ডিং কর্মসূচির গতি স্তব্ধ করা যায়।

কেন এই ইথানল মিশ্রণ ভারতের জন্য জরুরি? নীতিন গড়কড়ির কথায়, এর মূল উদ্দেশ্য হলো অপরিশোধিত তেল আমদানিতে ভারতের নির্ভরতা কমানো, পরিবেশ দূষণ তথা কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করা এবং সর্বোপরি দেশের কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটানো। ভারত ইতিমধ্যেই পেট্রলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে।

গাড়িচালকদের একাংশের আশঙ্কা ছিল যে, এই জ্বালানি পুরনো গাড়ির ইঞ্জিন সহ্য করতে পারছে না। কিন্তু মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং ইথানল ব্যবহারের ফলে কৃষকদের পকেটে অতিরিক্ত অর্থ আসছে। মন্ত্রী উদাহরণ দিয়ে জানান, ভুট্টা থেকে ইথানল তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের কৃষকদের উপার্জনে ৪৫,০০০ কোটি টাকার বৃদ্ধি ঘটেছে।

ব্যক্তিগত ব্যবসার স্বার্থে তিনি ইথানল নীতিকে জোরদার করছেন—এই অভিযোগও এদিন নস্যাৎ করে দেন গড়কড়ি। তিনি জানান, তাঁর পরিবারের মালিকানাধীন চিনি কারখানাগুলোর ব্যবসা ইথানল উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল নয় এবং নীতি নির্ধারণে ব্যক্তিগত ব্যবসার কোনো প্রভাব নেই।

সবশেষে, পেট্রলে ২৫ শতাংশ ইথানল বা ‘E25’ মেশানোর জল্পনা নিয়েও মুখ খুলেছেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেছেন, এখনই ২০ শতাংশের বেশি ইথানল মেশানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে ভবিষ্যতে যদি কোনো নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তা অবশ্যই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার পরেই করা হবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানের পর E20 নিয়ে বিতর্ক কিছুটা হলেও থিতু হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।