আর্থিক তছরুপের অভিযোগে বিদ্ধ তৃণমূল কংগ্রেস, ইডি-র অভিযানে অস্বস্তিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) অন্দরে বড়সড় আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে, যেগুলোতে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা জমা ছিল। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ)-এর অধীনে ইডি এই বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

কী অভিযোগ ইডি-র?

ইডি-র তদন্তে উঠে এসেছে যে, তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে সন্দেহজনকভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন কোম্পানির অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে। বিশেষ করে কেয়ারওয়েল এভিয়েশন-এর সঙ্গে সম্পর্কিত লেনদেনগুলো তদন্তকারীদের নজরে এসেছে।

  • বিমান ও হেলিকপ্টার জালিয়াতি: তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে টিএমসি-র অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা কেয়ারওয়েল এভিয়েশন এবং তাদের সহযোগী ইউনিটগুলিতে পাঠানো হয়েছিল। এই অর্থের মাধ্যমেই একটি এমব্রেয়ার লিগ্যাসি ৬০০ জেট বিমান এবং একটি অগাস্টা ওয়েস্টল্যান্ড ১০৯এসপি হেলিকপ্টার কেনা হয়েছে।

  • সন্দেহজনক লেনদেন: বিদেশ থেকে পাওয়া তহবিল এবং সরাসরি দলের অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া অর্থ ব্যবহার করে এই বিমান ও হেলিকপ্টারগুলো কেনা হয় এবং পরবর্তীতে সেগুলোকেই আবার দলকে ‘লিজ’ দেওয়া হয়। ইডি-র মতে, এই পুরো প্রক্রিয়াটি মূলত আসল সুবিধাভোগীদের আড়াল করার একটি কৌশল মাত্র।

তদন্তের সূত্রপাত কীভাবে?

তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সময় বিদ্রোহী বিধায়করা দলের তহবিলের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলায় জল অনেক দূর গড়ায়। শুরুতে কলকাতা পুলিশ তিনটি অ্যাকাউন্টের লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেও, বর্তমানে ইডি-র এই কঠোর পদক্ষেপ দলটির জন্য এক বড় আইনি ও রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে।

ইডি জানিয়েছে, এই আর্থিক লেনদেনের গভীরে আরও বড় কোনো চক্র কাজ করছে কি না এবং কাদের লাভের জন্য এই জালিয়াতি করা হয়েছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই অভিযানে কলকাতার প্রায় পাঁচটি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে।