ময়নাগুড়িতে আতঙ্কের ছবি, নদীর জলে উলটে গেল পাকা বাড়ি! হরিরভিটায় ত্রাণের জলই ভরসা, সব হারানো গ্রামবাসীদের হাহাকার

যেন কোনও শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে গিয়েছে! জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির হরিরভিটা গ্রামে এখন এমনই আতঙ্কের ছবি। নদীর বাঁধ ভেঙে আসা জলের তীব্র স্রোতে গ্রামের মাঝে একটি আস্ত পাকা বাড়ি বিপজ্জনকভাবে উলটে পড়ে আছে। বিশালাকার এক গর্তের মধ্যে ঢুকে গিয়েছে বাড়ির একাংশ। হেলানো মিনারের মতোই বিপজ্জনকভাবে হেলে থাকা বাড়িটি এখন গ্রামবাসীদের মনে ভয় ধরাচ্ছে।

শোভারাণি বারুই এবং ভজন বারুই দম্পতির এই পাকা বাড়িটি তৈরি হয়েছিল বাংলা আবাস যোজনার অধীনে, তাঁদের বিশেষভাবে সক্ষম ছেলের জন্য। রবিবার সকাল ৯টা নাগাদ ধেয়ে আসা জলের স্রোত সেই বাড়িটিকে আর সোজা থাকতে দেয়নি। ভজন বারুই ধ্বংস হয়ে যাওয়া নিজের বাড়ি ঘুরে সরকারি আধিকারিকদের দেখাচ্ছিলেন আর বলছিলেন, “নদীর জল বাঁধ ভেঙে এসে দারুণ জোরে আঘাত হানল। তাতেই আমার বাড়ি ভেঙে পড়ল। কিছু টুকটাক জিনিস বার করতে পেরেছি, তবে নিজের বাড়ি দেখে নিজেরই ভয় লাগছে। যদি আবার ভেঙে পড়ে।”

এই বাড়িটির মালিক শোভারাণি বারুই বলেন, “সরকারের দেওয়া বাড়ি ছিল। এই বাড়ি আমার চলে গেল। আমার বিশেষভাবে সক্ষম ছেলের এবার কি হবে?” যখন সবাই এই নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত, তখন ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে সব দেখছে তাঁদের ছেলে সাধন, বোঝার চেষ্টা করছে সেদিন কেমন করে জল এসেছিল আর সব ভাসিয়ে নিয়ে চলে গিয়েছিল।

লন্ডভন্ড গোটা গ্রাম:
হরিরভিটা গ্রামে শুধু বারুই দম্পতির বাড়িই নয়, জলের তোড়ে একাধিক কাঁচা-পাকা বাড়ি ভেঙে গেছে। ঘরের সব জিনিসপত্র ভেসে গেছে। গ্রামের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা মহেশ রায় বলেন, “ঘরের কিছু নেই। সব শেষ। মাকে বার করতে গিয়ে টেবিলের ওপর রাখা ৩০,৫০০ টাকাও ভেসে চলে গেছে। কি করে জীবন চলবে জানি না। ভাগ্য ভালো মাকে ঠিকঠাক করে বার করতে পেরেছি।”

বৃষ্টি থামলেও গ্রামবাসীদের দুর্দশা কাটেনি। পানীয় জলের পুকুর এখন নোংরা আবর্জনায় ভরে দুর্গন্ধময়। ফলে আপাতত ত্রাণের জলই এই গ্রামের একমাত্র ভরসা। গ্রামের রাস্তার অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। রাস্তার অর্ধেক অংশ জলের তোড়ে উধাও। যেটুকু টিকে আছে, যেকোনো সময় তা ভেঙে যেতে পারে। এই চরম বিপর্যয়ের সঙ্গেই লড়ছে ময়নাগুড়ির হরিরভিটা।