“বাঙালির জয়জয়কার আফ্রিকায়!”-বিপুল গ্রাফাইট খনির হদিশ দিলেন বাঙালি বিজ্ঞানীরা

বিভূতিভূষণের ‘চাঁদের পাহাড়’-এ শঙ্করের আফ্রিকা জয়ের স্বপ্ন আজও প্রতিটি বাঙালির শিরায় শিরায় শিহরণ জাগায়। তবে এবার আর কোনো কল্পকাহিনি নয়, বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে আফ্রিকা জয় করলেন একদল বাঙালি। তানজানিয়ার দুর্গম এলাকায় বিশাল এক গ্রাফাইট খনির সন্ধান পেয়েছে ভারতীয় সংস্থা ‘সাকারিয়া মাইনস অ্যান্ড মিনারেলস’। আর এই ঐতিহাসিক অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন পাঁচ বাঙালি বিজ্ঞানী—সুপ্রিয় দাস, সুকান্ত গোস্বামী, সাবির আহমেদ চৌধুরী, শুভব্রত দে এবং কৌশিক দাস।
কী এমন পাওয়া গেল? তানজানিয়ার টাঙ্গা বন্দর থেকে প্রায় ৭২ কিলোমিটার দূরে আবিষ্কৃত এই খনিতে প্রায় ১৮৩ মিলিয়ন টন হাই-গ্রেড, লার্জ-ফ্লেক গ্রাফাইট সঞ্চিত রয়েছে। এই গ্রাফাইট সাধারণ মানের নয়, বরং এটি প্রাকৃতিক কেলাসীভূত (Natural Crystalline) অত্যন্ত উচ্চমানের খনিজ। টিমের অন্যতম সদস্য সুপ্রিয় দাসের দাবি, আকরিকের পরিমাণ ও গুণমানের বিচারে এটি বিশ্বের প্রথম পাঁচটি গ্রাফাইট ভাণ্ডারের একটি।
কেন এই খনির গুরুত্ব অপরিসীম? গ্রাফাইট বর্তমান বিশ্বের শিল্পক্ষেত্রে ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেল’ হিসেবে পরিচিত। এর বহুমুখী ব্যবহারের কারণগুলি হলো:
বিদ্যুৎ ও তাপ পরিবাহিতা: অত্যন্ত উচ্চমানের তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী হওয়ায় এটি শিল্প উৎপাদনে অপরিহার্য।
ইভি ও ব্যাটারি শিল্প: বিশ্বজুড়ে বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV) তৈরির যে জোয়ার চলছে, তার ব্যাটারি শিল্পে এই লার্জ-ফ্লেক গ্রাফাইটের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
ভারতের স্বার্থ: ‘ন্যাশনাল ক্রিটিক্যাল মিনারেল মিশন’-এর অধীনে ভারত সরকারও এখন এই খনিজ সংগ্রহের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা: এই আবিষ্কারটি খনিশিল্পের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ‘JORC’ (Joint Ore Reserves Committee)-এর নিয়ম মেনে করা হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য। সুপ্রিয়বাবু জানিয়েছেন, ২০২২ সাল থেকে তানজানিয়ায় নিরলস পরিশ্রমের পর এই সাফল্য এসেছে। উত্তোলনের জন্য ওই এলাকাতেই প্ল্যান্ট বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
আফ্রিকায় বাঙালির খুঁজে পাওয়া এই সম্পদ ভারতে পৌঁছে গেলে দেশের ব্যাটারি ও ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে যে এক নতুন শিল্পবিপ্লব আসবে, তা বলাই বাহুল্য। বিশ্বমঞ্চে বাঙালির এই সাফল্য ও ভারতের শিল্পোন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তানজানিয়ার এই গ্রাফাইট খনি হয়ে উঠতে পারে এক মাইলফলক।