শাহজাহান-শওকতের প্রসঙ্গ বিধানসভায়, হুমায়ুন কবীরকে চরম হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর!

মুর্শিদাবাদের নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সাম্প্রতিক উস্কানিমূলক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিধানসভার ফ্লোর থেকে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, রাজ্যে উস্কানি বা অসাংবিধানিক কোনো মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না। বিধায়কের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই দুটি FIR দায়ের করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর বার্তা: সোমবার জিরো আওয়ারে বিধায়কের বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়টি উত্থাপিত হলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “হুমায়ুন কবীরের মন্তব্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক এবং উস্কানিমূলক। রেজিনগর ও শক্তিপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে দুটি FIR দায়ের হয়েছে। কান খুলে শুনে রাখুন, এ রাজ্যে এই ধরনের লাগামছাড়া মন্তব্য আর চলতে দেব না, দেব না, দেব না। সংবিধান ও আইনই শেষ কথা বলবে।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন, মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এলাকায় ৭২ শতাংশ মুসলিম ভোটকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় মেরুকরণের চেষ্টা করছেন বিধায়ক। উপনির্বাচনে নিজের ছেলেকে জেতানো এবং পঞ্চায়েত দখলের রাজনৈতিক এজেন্ডা থেকেই তিনি এই ধরনের মন্তব্য করছেন বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি নিজে মুর্শিদাবাদ সফরে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন বলেও জানিয়েছেন।

নাম না করে ‘বাহুবলী’দের পরিণতির স্মরণ: বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নাম না করে রাজ্যের অতীতে দাপুটে তিন নেতার পরিণতির কথা মনে করিয়ে দেন। সন্দেশখালির শাহজাহান শেখ, ভাঙড়ের শওকত মোল্লা এবং ফলতার জাহাঙ্গির খানের নাম উল্লেখ না করলেও, তাদের বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি হুমায়ুন কবীরকে সতর্ক করে বলেন, “অতীতে যারা দাপট দেখিয়েছিল, আজ তাদের কী পরিণতি হয়েছে তা একবার ভেবে দেখুন। সন্দেশখালির নেতা এখন শ্রীঘরে, আর অন্যরা আজ কান ধরে ওঠবোস করছে। ২৫ বার ভেবে কথা বলুন।”

প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বেলডাঙা-২ নম্বর ব্লকের কাশিপুরে এক জনসভায় বিধায়ক হুমায়ুন কবীর আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেছিলেন, “এমন মার দেব স্যাটা গরম করে দেব। তখন কে মুখ্যমন্ত্রী, কে পুলিশ সুপার সেই সব তোয়াক্কা করব না।” এই মন্তব্যের পরেই রাজ্যজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে এবং একাধিক থানায় অভিযোগ দায়ের হয়।

মুখ্যমন্ত্রীর এই সরাসরি আক্রমণ ও আইনি হুঁশিয়ারির পর মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, প্রশাসন এই বিলম্বে বা কোনো আপসের পথে হাঁটে কি না, নাকি বিধায়কের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।