“OBC তালিকা থেকে বাদ ১১৩টি জাতি”-নতুন বিল পাস হতেই তুমুল বিতর্ক, কী দাবি বিরোধীদের?

সোমবার রাজ্য বিধানসভায় পাস হলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বিতর্কিত ‘ওবিসি সংরক্ষণ সংশোধনী বিল’। অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষের পেশ করা এই বিলটি ১৮৬ ভোটে পাস হয়েছে। বিরোধীদের তুমুল আপত্তি সত্ত্বেও সরকার তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিলটি কার্যকর করতে সক্ষম হয়েছে।

বিল ও বিতর্ক: গত সরকারের আমলে ওবিসি সংরক্ষণের তালিকা ৬৬টি থেকে বাড়িয়ে ১১৩টিতে উন্নীত করা হয়েছিল। বর্তমান সরকারের আনা এই সংশোধনী বিলের মাধ্যমে সেই অতিরিক্ত ১১৩টি জাতিকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলো। মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষের দাবি, “রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য আগের সরকার একটি নির্দিষ্ট ধর্ম-সম্প্রদায়কে তুষ্ট করতে নিয়মবহির্ভূতভাবে তালিকা দীর্ঘ করেছিল। আমরা কমিশনের সুপারিশ মেনে তালিকাটিকে ১৯৯৩ সালের অবস্থানে ফিরিয়ে আনছি।”

বিরোধীদের সুর: বিলটি পাস হলেও বিধানসভায় ব্যাপক বিরোধিতার মুখে পড়তে হয় শাসকদলকে। মোট ১৭ জন বিধায়ক এই বিলের বিপক্ষে ভোট দেন।

  • নওশাদ সিদ্দিকি (ISF): তিনি ধর্মীয় পরিচয় না দেখে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কমিশনের গাইডলাইন মেনে তালিকা তৈরির দাবি জানান। নওশাদের মতে, এই বিলের ফলে অনগ্রসর মানুষ হিংসাত্মক পথ বেছে নিতে পারে।

  • বাবর আলি (তৃণমূল বিধায়ক): তিনি সরকারের কাছে জানতে চান, কোনও সমীক্ষা ছাড়াই কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে?

  • মোস্তাফিজুর রহমান (সিপিএম): তিনি কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের সুরক্ষার দাবি তুলে বলেন, এই তালিকায় থাকা বহু মানুষ বর্তমানে চাকরিতে যুক্ত। তাঁদের স্বার্থ যেন কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

সরকারের পাল্টা যুক্তি: বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগ খণ্ডন করে মন্ত্রী বলেন, “যদি ভবিষ্যতে কমিশন সমীক্ষা করে দেখে যে, কোনো বিশেষ জাতি সামাজিক ও শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে আছে, তবে তাদের অবশ্যই নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কিন্তু আপাতত রাজনৈতিক স্বার্থে করা তালিকা বাতিল করাই আমাদের লক্ষ্য।”

ভবিষ্যৎ কী? এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের একটি বড় অংশের মানুষ সংরক্ষণের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সরকারি চাকরিতে কর্মরত বা আবেদনকারী পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। তবে সরকার এই বিল পাসের মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিল যে, তারা পুরনো ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের পথে হাঁটতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।