জেনারেল শঙ্কর রায়চৌধুরীর বাড়ির পুজো, টাকির বুকে আজও জীবন্ত এক ইতিহাস

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া টাকি শহরটি তার নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি নিয়ে আজও স্বমহিমায় উজ্জ্বল। ইছামতী নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাচীন জমিদার বাড়ি আর মন্দিরগুলো যেন সেই ইতিহাসের সাক্ষী। আর তেমনই একটি ঐতিহাসিক বাড়ি হলো ভারতের প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল শঙ্কর রায়চৌধুরীর পূর্বপুরুষের বাড়ি, যেখানে আজও পালিত হয় কয়েকশো বছরের পুরোনো দুর্গাপূজা।

কথিত আছে, জমিদার কেদার রায়চৌধুরীর হাত ধরে এই পুজোর সূচনা হয়েছিল। সময়ের সাথে সাথে কিছু প্রথার পরিবর্তন হলেও, পুজোর জৌলুস আর ঐতিহ্য আজও অমলিন। একসময় এখানে ছাগল বলির প্রথা প্রচলিত থাকলেও, এখন তার পরিবর্তে প্রতীকীভাবে কুমড়ো বলি দেওয়া হয়। এই পুজো শুধু রায়চৌধুরী পরিবারের নয়, বরং সমগ্র টাকি শহরের মানুষের কাছে এক আবেগের উৎসব। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দেশভাগের আগে ওপার বাংলার অসংখ্য মানুষ কেবল এই পুজো দেখার জন্য ইছামতী নদী পেরিয়ে আসতেন। কাঁটাতারের বেড়া সেই পথ বন্ধ করে দিলেও, দুই বাংলার মানুষের মেলবন্ধনের স্মৃতি আজও উজ্জ্বল।

পর্দার আড়ালে প্রতিমা, উন্মোচন পঞ্চমীর দিনে
এই বাড়ির পুজোর অন্যতম বিশেষত্ব হলো এখানকার প্রাচীন ঠাকুরদালান। বংশপরম্পরায় কুমোররা এখানেই প্রতিমা তৈরি করেন। তবে এর একটি বিশেষ রীতি রয়েছে— প্রতিমা গড়া থেকে শুরু করে রং করা পর্যন্ত সম্পূর্ণ কাজটি করা হয় কাপড়ের আড়ালে। ভক্তদের জন্য দেবীর পূর্ণাঙ্গ রূপ উন্মোচিত হয় শুধুমাত্র পঞ্চমীর দিনে। এরপরই শুরু হয় এখানকার জমকালো উৎসব, যা দেখতে স্থানীয়দের পাশাপাশি বহু পর্যটকও ভিড় জমান।

ইতিহাস, ঐতিহ্য আর আবেগে ভরা টাকির এই পুজো কেবল একটি পরিবারের ব্যক্তিগত উৎসব নয়, বরং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের এই ছোট শহরের এক গৌরবময় উত্তরাধিকার।