বদল হলো ‘কন্যাশ্রী’ ও ‘সবুজ সাথী’র নাম! ছাত্রছাত্রীদের জন্য বড় ঘোষণা রাজ্য সরকারের!

রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং জনমুখী দুটি সরকারি প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করল রাজ্য সরকার। এতদিন ধরে চলে আসা ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্পের নাম বদলে রাখা হচ্ছে ‘কন্যারত্ন’ (West Bengal Kanyaratna Scheme)। অন্যদিকে, স্কুলপড়ুয়াদের সাইকেল প্রদানের অত্যন্ত পরিচিত প্রকল্প ‘সবুজ সাথী’-র নাম পরিবর্তন করে রাখা হচ্ছে ‘সারথী’। তবে নাম বদলালেও প্রকল্পের সুবিধা বা সুযোগ-সুবিধা বন্ধ হচ্ছে না। ছাত্রছাত্রীদের জন্য সমস্ত সাহায্য আগের মতোই বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রকল্পের পটভূমি ও উদ্দেশ্য
মহিলাদের কল্যাণে তৈরি এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি আরও সুসংগঠিতভাবে পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, রাজ্যে নারীশিক্ষার প্রসার, স্কুলছুটের হার কমানো এবং মেয়েদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ২০১৩ সালে এই প্রকল্পের সূচনা করা হয়েছিল। মূলত তিনটি ধাপে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ছাত্রীদের আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়ে থাকে। প্রথম ধাপে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সি ছাত্রীদের বার্ষিক এক হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপে ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হলে অবিবাহিতা ছাত্রীকে এককালীন ২৫ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক স্তরেও এই উদ্যোগ অতীতে বিশেষ স্বীকৃতি লাভ করেছে।
কারা পাবেন এই প্রকল্পের সুবিধা? (যোগ্যতার মানদণ্ড)
‘কন্যারত্ন’ প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও যোগ্যতার মাপকাঠি নির্ধারণ করা হয়েছে:
ছাত্রীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার মধ্যে হতে হবে।
তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে এই আয়ের সীমার ছাড় রয়েছে। যেমন— ছাত্রীটি ৪০ শতাংশ বা তার বেশি মাত্রায় শারীরিকভাবে বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন হলে, অনাথ হলে (পিতা-মাতা উভয়ের মৃত্যু হলে), কিংবা জুভেনাইল জাস্টিস হোমে বসবাসকারী আবাসিক ছাত্রীদের ক্ষেত্রে আয়ের এই ঊর্ধ্বসীমা প্রযোজ্য নয়।
ছাত্রীকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্বীকৃত যে কোনও বিদ্যালয়ে পঠরত হতে হবে।
সাধারণ ক্ষেত্রে বয়সসীমা ১৩ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে হতে হবে। তবে কে-২ ক্যাটাগরির এককালীন পঁচিশ হাজার টাকার অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্রীর বয়স ১৮ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে এবং তাকে অবিবাহিত হতে হবে।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র
এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে হলে নির্দিষ্ট কিছু নথিপত্র সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক:
বয়সের প্রমাণপত্র হিসেবে বার্থ সার্টিফিকেট (Birth Certificate)।
অবিবাহিত থাকার প্রমাণস্বরূপ ছাত্রী এবং অভিভাবকের স্বাক্ষর করা সেলফ ডিক্লারেশন (Self Declaration) বা ঘোষণাপত্র।
উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া বার্ষিক আয়ের শংসাপত্র (Income Certificate)।
ছাত্রীর নিজের নামে থাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাসবইয়ের জেরক্স (যেখানে অ্যাকাউন্ট নম্বর ও IFSC কোড স্পষ্ট থাকবে)।
পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে আধার কার্ড (Aadhaar Card) এবং পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
বিশেষ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী শংসাপত্র বা ডেথ সার্টিফিকেট।
আবেদন প্রক্রিয়া
প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া মূলত অফলাইন মাধ্যমেই স্কুল বা কলেজের সাহায্যে সম্পন্ন হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই বিনামূল্যে আবেদনপত্র সংগ্রহ করা যায়। প্রথম ধাপের বার্ষিক বৃত্তির জন্য হালকা সবুজ রঙের ফর্ম এবং দ্বিতীয় ধাপের এককালীন অনুদানের জন্য হালকা নীল রঙের ফর্ম ব্যবহার করতে হয়।
ফর্মে নিজের ও পরিবারের সঠিক তথ্য দিয়ে তা পূরণ করতে হয়। এই প্রকল্পের একটি প্রধান শর্ত হলো, ছাত্রীর নিজের নামে একটি নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে, কারণ ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা DBT-র মাধ্যমে সরকারি অনুদানের সমস্ত টাকা সরাসরি সেই অ্যাকাউন্টেই জমা হয়। ফর্ম পূরণের পর তা স্কুল বা প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দিতে হয় এবং প্রাপ্তিস্বীকার রসিদ সংগ্রহ করতে হয়। এই রসিদে থাকা নির্দিষ্ট নম্বরের সাহায্যে পরবর্তীতে অনলাইনেই আবেদনের বর্তমান স্থিতি (Application Status) যাচাই করা সম্ভব।