‘যা হচ্ছে ঈশ্বরের ইচ্ছায়!’ যৌন হয়রানির মামলা থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পেয়ে কী বললেন বিতর্কিত নেতা ব্রিজভূষণ?

মহিলা কুস্তিগীরদের বহুল আলোচিত যৌন হয়রানির মামলায় অবশেষে আইনি স্বস্তি পেলেন কুস্তি ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি তথা বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ ব্রিজভূষণ শরণ সিং। দিল্লির প্রখ্যাত রাউজ অ্যাভিনিউ আদালতের রায়ে তাঁকে সমস্ত অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণভাবে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (এসিজেএম) অশ্বিনী পানওয়ার সোমবার এই অত্যন্ত সংবেদনশীল মামলার রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ তিন বছর ধরে চলা টানটান আইনি লড়াই ও বিচার প্রক্রিয়ার পর আদালতের এই রায় জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে দেশের শীর্ষস্থানীয় মহিলা কুস্তিগীরদের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিবাদের জেরে ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের বিরুদ্ধে এই চাঞ্চল্যকর ফৌজদারি মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের জুন মাসে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এই মামলায় একটি বিশাল ১,০০০ পৃষ্ঠার বিশদ অভিযোগপত্র বা চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছিল। সেই চার্জশিটে প্রায় ১০৮ জন ব্যক্তির গোপন জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছিল। সে সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত চার্জশিটের বিভিন্ন তথ্যে দাবি করা হয়েছিল যে, অভিযুক্ত ব্রিজভূষণ মহিলা কুস্তিগীরদের নিয়মিত হেনস্থা করতেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল যে, ঠিক কী যুক্তির ভিত্তিতে রাউজ অ্যাভিনিউ আদালত তাঁকে খালাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, রাউজ অ্যাভিনিউ আদালতে ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের আইনি লড়াইয়ের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী রাজীব মোহন ও ঋষভ ভাটি। আদালত গত ২ জুলাই এই মামলার সমস্ত শুনানি শেষ করে রায়দান সুরক্ষিত রেখেছিল। দীর্ঘ ৩২ দিন অপেক্ষার পর সোমবার আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিজভূষণের পক্ষে তাঁর নির্দোষিতার রায় প্রদান করে। আইনি বিশ্লেষকদের মতে, মূলত চারটি প্রধান ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আদালত এই রায় দিয়েছে। প্রথমত, ডিফেন্স পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দেন যে মামলার সমস্ত ভুক্তভোগী অভিযোগকারিণীরা বিভিন্ন সময়ে নিজেদের বয়ান ও বক্তব্যে বারবার বদল এনেছেন। কখনও ঘটনার স্থান তো কখনও আবার সময় নিয়ে তাঁদের বক্তব্যে অমিল পাওয়া গেছে, যা অভিযোগের সত্যতাকে দুর্বল করেছে।

দ্বিতীয়ত, রেসলিং ফেডারেশনের অফিসে কথিত ঘটনাটি ঘটার সময় অভিযুক্ত ব্রিজভূষণ শরণ সিং নিজে ভারতে উপস্থিত ছিলেন না—আদালতে এই সংক্রান্ত জোরালো প্রমাণ ও দালিলিক তথ্য পেশ করা হয়েছিল। তৃতীয়ত, আইনজীবী রাজীব মোহন জোরালো সওয়ালে জানান যে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণ সম্পূর্ণভাবে মৌখিক ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল, যার সপক্ষে কোনো শক্তপোক্ত বা সুনির্দিষ্ট বস্তুগত প্রমাণ ছিল না। যেহেতু পুরো মামলাটি সন্দেহের ওপর দাঁড়িয়েছিল, তাই আইন অনুযায়ী অভিযুক্তকে সন্দেহের সুবিধা দেওয়া উচিত বলে দাবি করা হয়। চতুর্থত, দিল্লি পুলিশ চার্জশিট দেওয়ার সময় ১৫ জন সাক্ষীর কথা বললেও চূড়ান্ত শুনানিতে প্রমাণিত হয় যে তাঁদের কেউই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন না।

অন্যদিকে, এই মামলার শুরুতেই এক নাবালিকা কুস্তিগীর ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইনের অধীনে মামলা ঠুকেছিল। কিন্তু মাত্র এক মাস বাদেই সেই অবস্থান থেকে সরে এসে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে মামলা তুলে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে সে, যা পরবর্তীতে আদালত গ্রহণ করে। এর আগে হুমকি মামলা থেকেও অব্যাহতি পেয়েছিলেন তিনি। সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্ত হয়ে ব্রিজভূষণ সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানান, “যা হচ্ছে সবই ঈশ্বরের ইচ্ছা।”