“১৭ বছরের অমর জুটির বিচ্ছেদ”-কেন চেন্নাই সুপার কিংসের কোচিং পদ ছাড়লেন ফ্লেমিং?

আইপিএল ইতিহাসের এক অনন্য এবং দীর্ঘতম অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। চেন্নাই সুপার কিংস (CSK) এবং তাদের প্রধান কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা এই সফল জুটির বিচ্ছেদে ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
এক নজরে ফ্লেমিং-সিএসকে যুগ: ২০০৮ সালে আইপিএলের উদ্বোধনী বছরে খেলোয়াড় হিসেবে চেন্নাইয়ে যোগ দিয়েছিলেন ফ্লেমিং। এরপর ২০০৯ সাল থেকে তিনি প্রধান কোচের দায়িত্ব সামলেছেন। দীর্ঘ এই যাত্রায় ফ্লেমিংয়ের হাত ধরে সিএসকে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের অন্যতম সফল এবং ধারাবাহিক দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। শুধু আইপিএল নয়, ফ্লেমিং তাদের সাবসিডিয়ারি দল জোহানেসবার্গ সুপার কিংস (SA20) এবং টেক্সাস সুপার কিংস (MLC)-এর কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ফ্লেমিংয়ের অধীনে সিএসকের সাফল্যের খতিয়ান:
৫টি আইপিএল শিরোপা জয়।
২টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি ট্রফি জয়।
রেকর্ড ১২ বার প্লে-অফ খেলা।
১০ বার আইপিএল ফাইনালে অংশগ্রহণ।
কী বললেন কর্তৃপক্ষ ও ফ্লেমিং? চেন্নাই সুপার কিংসের মালিক রূপা গুরুনাথ ফ্লেমিংয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “প্রায় দুই দশক ধরে তিনি আমাদের দলের পরিচয়, ভিশন এবং সাফল্যের রূপকার ছিলেন। তিনি আমাদের হৃদস্পন্দন।”
বিদায় বেলায় আবেগপ্রবণ স্টিফেন ফ্লেমিং বলেন, “খেলাধুলার দুনিয়ায় ১৮ বছর একটি বিশাল সময়। সিএসকে-তে আমার সময়টা আমার কোচিং ক্যারিয়ারের সেরা অভিজ্ঞতা। একসঙ্গে উদযাপন, লড়াই এবং যে স্মৃতি তৈরি করেছি, তা চিরকাল আমার হৃদয়ে থাকবে।”
কেন এই বিচ্ছেদ? ২০২৩ সালে পঞ্চম আইপিএল শিরোপা জয়ের পর থেকেই চেন্নাইয়ের পারফরম্যান্সে কিছুটা ভাটা পড়ে। ২০২৪ সালে তারা পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চম স্থানে শেষ করে। এরপর ২০২৫ সালে দলটি পয়েন্ট টেবিলের একেবারে নিচে (দশম) নেমে যায় এবং সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ মরসুমে অষ্টম স্থানে শেষ করে। টানা তিন মরসুমের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পরই ফ্র্যাঞ্চাইজি ও কোচের মধ্যে এই পারস্পরিক বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত এল বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।