রাজ্যে কার্যকর কঠোর ‘গুণ্ডাদমন আইন’! সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের কড়া নিদান, কাঁপছে সমাজবিরোধীরা

রাজ্যে আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো বহুল আলোচিত ও কঠোর ‘গুণ্ডাদমন আইন’। নতুন এই আইনের পোশাকি নাম ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ় অ্যাক্ট, ২০২৬’। মূলত রাজ্যে সংগঠিত অপরাধ, সমাজবিরোধী কার্যকলাপ এবং সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য নির্মূল করতেই এই আইন প্রবর্তন করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

নতুন আইনের ময়নাতদন্ত:
এই আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকলে সরাসরি ‘গুণ্ডা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। আইনটি এতটাই কঠোর যে, অভিযুক্তরা যদি কোনো সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করে, তবে সরকার সরাসরি তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারবে। প্রশাসনিক মহলের দাবি, দুষ্কৃতীদের আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিতেই এই বিশেষ সংস্থান রাখা হয়েছে। আজ থেকেই রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনকে এই আইন প্রয়োগের পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন থেকে যেকোনো বড় ধরনের অপরাধমূলক কাজে জড়ালে অভিযুক্তদের কপালে যে বড় বিপদ অপেক্ষা করছে, তা স্পষ্ট।

সেবাশ্রয় ও ভুল চিকিৎসার বিতর্ক:
একদিকে যখন নতুন আইন নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এক ভয়াবহ অভিযোগ সামনে এসেছে। ‘সেবাশ্রয়’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ, সেবাশ্রয়ে এক মহিলার ভুল চিকিৎসার কারণে তাঁর একটি পা বাদ দিতে হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।

সূত্রের খবর, এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের ভিত্তিতে আজই ভুক্তভোগী ওই মহিলাকে ভবানীভবনে তলব করেছে পুলিশ। জানা গেছে, সেবাশ্রয়ের সঙ্গে যুক্ত অভিষেক নামের এক ব্যক্তির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চিকিৎসা গাফিলতির অভিযোগে আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছেন তিনি। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে বড়সড় বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একদিকে কঠোর গুণ্ডাদমন আইনের প্রয়োগ এবং অন্যদিকে চিকিৎসা সংক্রান্ত এই বড়সড় অনিয়মের তদন্ত—উভয় ক্ষেত্রেই এখন প্রশাসনের বড় পরীক্ষা। সব মিলিয়ে, সোমবারের এই ঘটনাপ্রবাহে রাজ্যজুড়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। প্রতি মুহূর্তের নির্ভুল ও দ্রুত আপডেট পেতে চোখ রাখুন টিভি৯ বাংলার লাইভ আপডেটে।