সোনায় কি আরও বড় ধস? ২০ হাজার টাকা সস্তা হতে পারে সোনা, কিনবেন নাকি অপেক্ষা করবেন?

২০২৬ সালের শুরুর দিকে সোনার দাম আকাশচুম্বী হওয়ার পর, এখন মূল্যবান এই ধাতুর বাজারে বড়সড় ধস নেমেছে। জানুয়ারি ২০২৬-এ ৫,৫৯৫ ডলার প্রতি আউন্স ছুঁয়ে সোনা রেকর্ড গড়েছিল। কিন্তু গ্লোবাল মার্কেটে সেই দাম এখন প্রায় ২৭ শতাংশ কমে ‘বেয়ার মার্কেট’ বা মন্দার কবলে পড়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অদূর ভবিষ্যতে সোনার দাম আরও ১৬ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে ৩,৪০০ থেকে ৩,৫০০ ডলারের স্তরে নেমে আসতে পারে। যদি এই পূর্বাভাস সত্যি হয়, তবে ভারতের বাজারে সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে, অর্থাৎ দাম ১.২২ লক্ষ টাকার ঘরে নেমে আসতে পারে।

সোনার দামের এই পতনের পেছনে প্রধানত দায়ী ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির ভয় বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি, মার্কিন ডলারের অস্বাভাবিক শক্তি এবং আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা সোনার আকর্ষণ কমিয়ে দিয়েছে। শুধুমাত্র ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রায় ২৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ৪,০৭৫ ডলারের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে, যা এক সময় ৪,০৫৭ ডলার পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল। ভারতের মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) ইতিমধ্যেই সোনার দাম ১০৩৩ টাকা কমে ১,৪২,৪৪৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

তবে বিনিয়োগকারীদের জন্য এই পতন কি আতঙ্কের নাকি সুযোগ? অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতে, দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এখনও সোনা একটি শক্তিশালী সম্পদ। সমকো সিকিউরিটিজ এবং জিওজিৎ ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের বিশ্লেষকদের মতে, ৪,০০০ ডলারের স্তরটি সোনার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘সাপোর্ট লেভেল’। যদি কোনো কারণে বাজার আরও অস্থির হয়, তবে ৩,৫০০ ডলার পর্যন্ত দাম নামতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সোনার ভবিষ্যৎ ইতিবাচক।

HSBC তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সোনার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষমাত্রা কিছুটা সংশোধন করে ৪,৫৬০ ডলার করেছে। তাদের মতে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আবারও সোনার দিকে টেনে আনবে। এর পাশাপাশি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো (Central Banks) বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে সোনা মজুদ করছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বার্ষিক গড়ে ১,০০০ টন সোনা সঞ্চয় করেছে, যা বাজারের তলানি বা ‘প্রাইস ফ্লোর’ ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

পরিশেষে, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি আপনি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারী হন, তবে দামের এই প্রতিটি পতন আপনার জন্য ক্রয়ের একটি চমৎকার সুযোগ হতে পারে। অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা এবং বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার সময়ে সোনা সবসময়ই একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই হঠকারিতা না করে বাজারের প্রতিটি মুভমেন্টের ওপর নজর রাখা জরুরি। যদিও নিকট ভবিষ্যতে দাম কিছুটা অস্থির থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, তবুও সোনার দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাবনা নিয়ে বাজার বিশেষজ্ঞরা এখনও যথেষ্ট আশাবাদী।