রাম মন্দির অনুদানে কি বড়সড় দুর্নীতি? সুপ্রিম কোর্টের নজরে ট্রাস্ট ও সরকার

অযোধ্যা রাম জন্মভূমি মন্দিরে প্রাপ্ত অনুদান ও তহবিলে অনিয়ম এবং চুরির গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে আজ সুপ্রিম কোর্টে এক গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই মামলার প্রেক্ষিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত কেন্দ্র ও উত্তর প্রদেশ সরকারের পাশাপাশি শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টকে নোটিশ জারি করেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে বিষয়টি এখন দেশের অন্যতম আলোচিত আইনি প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে।

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ বেঞ্চ এই শুনানি পরিচালনা করেন। বেঞ্চের অন্যান্য সম্মানিত বিচারপতিদের মধ্যে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনা। রাম মন্দির নির্মাণের জন্য দেশজুড়ে কোটি কোটি ভক্তের থেকে সংগৃহীত অনুদানের অর্থ তছরুপ এবং দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে একটি স্বাধীন ও আদালত-পর্যবেক্ষিত তদন্তের দাবি তোলা হয়েছিল। এই আবেদনের গুরুত্ব বিচার করে সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে তাদের জবাব তলব করেছে।

মূলত, রাম মন্দির ট্রাস্টের আর্থিক লেনদেন এবং অনুদান গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জনস্বার্থে এই আবেদন করা হয়েছিল। শুনানির সময় বিচারপতিদের বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, উত্তর প্রদেশ সরকারের নির্দেশে গঠিত স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (এসআইটি) যে তদন্ত করছে, তার বর্তমান অবস্থা কী? আদালত এসআইটি-কে নির্দেশ দিয়েছে যে, তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে পেশ করতে হবে।

প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, “আমরা উত্তর প্রদেশ সরকারের গঠিত এসআইটি-কে নির্দেশ দিচ্ছি যে তারা যেন তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন অবিলম্বে আমাদের কাছে জমা দেয়। একইসঙ্গে এসআইটি গঠনের প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্যও নথিবদ্ধ করতে বলা হয়েছে।” আদালত আগামী সোমবারের মধ্যে এই বিষয়ের ওপর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।

শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের ওপর এই মামলার প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। কোটি কোটি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক এই মন্দিরের তহবিল ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরণের কারচুপি হয়েছে কি না, তা এখন সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে। পরবর্তী শুনানির দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ। আদালত কত দ্রুত এই ঘটনার সত্যতা উন্মোচন করতে পারে এবং ট্রাস্টের পক্ষ থেকে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।