টলিপাড়ায় নতুন হাওয়া! রাজনৈতিক গণ্ডি পেরিয়ে শিল্পীদের স্বার্থে আত্মপ্রকাশ ‘পারফরমার্স অফ বেঙ্গল’-এর

কলকাতার সাংস্কৃতিক মানচিত্রে এক নতুন যুগের সূচনা হলো বুধবার, ১৭ জুন। প্রেস ক্লাবে এক ছাদের নিচে জড়ো হয়েছিলেন শিলাজিৎ মজুমদার, অনিন্দ্য বসু, রাঘব চট্টোপাধ্যায়, সিধু ও পটা-র মতো বাংলার সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্ররা। শিল্পীদের দীর্ঘদিনের দাবি, বঞ্চনা ও অনিশ্চয়তার সমাধান খুঁজতে জন্ম নিল নতুন সংগঠন—‘পারফরমার্স অফ বেঙ্গল’ (POB)। শিল্পীদের দ্বারা এবং শিল্পীদের স্বার্থেই গঠিত এই মঞ্চটি অরাজনৈতিক এবং নিরপেক্ষ থাকার বার্তা দিয়েছে।

শিল্পীদের স্বর ও বঞ্চনার অবসান:
দীর্ঘদিন ধরে টলিপাড়া ও রাজ্যের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে যে স্বজনপোষণ এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠছিল, তাকেই চ্যালেঞ্জ জানালেন এই শিল্পীরা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, শিল্পীর কাজ বা সুযোগ পাওয়া কোনো নির্দিষ্ট প্রভাববলয়ের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ পাওয়ার স্বচ্ছ পরিবেশ তৈরি করাই এই সংগঠনের প্রধান লক্ষ্য। গায়ক অনিন্দ্য বসু থেকে সিধু—সকলেই একযোগে সুর মিলিয়েছেন, শিল্পীর মর্যাদা যেন রাজনীতির রঙে বিচার না হয়।

মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একগুচ্ছ দাবি:
এই সংগঠনটি শুধুমাত্র অভিযোগ তুলতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং সরকারের কাছে শিল্পীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য একটি প্রস্তাবপত্রও জমা দিয়েছে। সংগঠনটির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে স্বজনপোষণ ও পক্ষপাতিত্বের অবসান।

মহিলা শিল্পীদের মঞ্চে ও সফরের সময় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।

শিল্পীদের জন্য বার্ধক্যভাতা ও মেডিক্লেম ব্যবস্থা করা।

রেডিও স্টেশনগুলিতে মৌলিক বাংলা গানের প্রচার বৃদ্ধি করা।

জেলার লোকশিল্পী ও বাউলদের সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্মানজনক পারিশ্রমিক সুনিশ্চিত করা।

রুদ্রনীল ঘোষের বার্তা:
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি বিজেপি বিধায়ক ও অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ স্পষ্ট করেছেন, তিনি এখানে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আসেননি, বরং শিল্পীদের দাবির বার্তাবাহক হিসেবে এসেছেন। তিনি জানান, বহু বছর ধরে যে প্রভাববলয়ের কারণে যোগ্য শিল্পীরা অবহেলিত হয়েছেন, মানুষ তার অবসান ঘটিয়েছে। এই শিল্পীদের ন্যায্য দাবিগুলো তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেবেন এবং রাজ্য সরকার নারী নিরাপত্তা ও শিল্পীদের উন্নয়নের বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে বলেই তাঁর আশা।

আগামীর পথচলা:
‘পারফরমার্স অফ বেঙ্গল’ শুধুমাত্র কিছু সুযোগ-সুবিধার দাবি আদায়কারী সংগঠন নয়, বরং এটি একটি সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ার অঙ্গীকার। যেখানে বাউল থেকে ব্যান্ড সঙ্গীতশিল্পী—প্রত্যেকেই সমান গুরুত্ব পাবেন। বুধবারের এই আত্মপ্রকাশ প্রমাণ করল, টলিপাড়ার শিল্পীরা আর নীরব দর্শক হয়ে থাকতে রাজি নন। প্রতিভা যখন যোগ্যতার নিরিখে মূল্যায়িত হবে এবং শিল্পীর মর্যাদা সংরক্ষিত থাকবে, তখনই বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি প্রকৃত অর্থে বিকশিত হবে। নতুন এই মঞ্চ তাই বহু শিল্পী, বাচিক শিল্পী ও কলাকুশলী