৯ বার সিপিআর দিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে নেতাকে ফেরালেন চিকিৎসক! চিকিৎসাবিজ্ঞানের অবিশ্বাস্য জয়

হৃদস্পন্দন হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে মানুষের জীবন সংশয় তৈরি হতে মাত্র কয়েক মুহূর্ত সময় লাগে। এমন সংকটজনক পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের প্রতিটি সেকেন্ডের লড়াই একটি জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে। তেলেঙ্গানার প্রবীণ বিআরএস (BRS) নেতা তথা নরসামপেটের প্রাক্তন বিধায়ক পেদ্দি সুদর্শন রেড্ডি-র ক্ষেত্রে ঠিক এমনই এক চরম নাটকীয় ঘটনা ঘটে গেল। চিকিৎসকদের নিরলস ও অসাধারণ প্রচেষ্টার ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে অলৌকিকভাবে ফিরে এলেন তিনি।
কী ঘটেছিল সেদিন? রবিবার সকালে হনুমাকোন্ডায় নিজ বাসভবনে হঠাৎ করেই গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত হন পেদ্দি সুদর্শন রেড্ডি। তাঁর পরিবার কালক্ষেপ না করে তৎক্ষণাৎ তাঁকে স্থানীয় রোহিনী হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে এবং তিনি সম্পূর্ণ অচেতন হয়ে পড়েন।
এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীনই কিছুক্ষণের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতার মৃত্যুর ভুয়ো খবর ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। তবে হাল ছাড়েননি হাসপাতালের প্রবীণ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সি. মমতা রেড্ডি ও তাঁর নেতৃত্বাধীন মেডিকেল টিম। রোগীর প্রাণ বাঁচাতে একটানা নয় বার সিপিআর (CPR) এবং অন্যান্য জরুরি চিকিৎসা প্রদান করেন তাঁরা। অবশেষে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর নেতার হৃদস্পন্দন পুনরায় সচল হয়। এই অভূতপূর্ব সাফল্যের পর বিআরএস নেতা হরিশ রাওসহ রাজ্যের বহু বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ডা. মমতা রেড্ডির সাহসিকতা ও চিকিৎসা দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
অসম্ভবকে সম্ভব করাই যেন তাঁর অভ্যাস! রোগীর জীবন বাঁচাতে ডা. মমতা রেড্ডির এমন কীর্তি নতুন কিছু নয়। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলেই বিজেপি নেতা তথা ওয়ারাঙ্গল পশ্চিমের প্রাক্তন বিধায়ক মার্তিনিনেনি ধর্মরাও যখন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এই হাসপাতালে এসেছিলেন, তখনও ডা. মমতা রেড্ডি একটানা ১১ বার সিপিআর প্রয়োগ করে তাঁর জীবন বাঁচিয়েছিলেন। পরপর দুটি অত্যন্ত জটিল ও সংকটজনক পরিস্থিতিতে রোগীকে মৃত্যুর মুখ থেকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ছিনিয়ে আনায় চিকিৎসা মহলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এই চিকিৎসক।
সিপিআর (CPR) আসলে কী এবং কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ? চিকিৎসকদের মতে, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে সঠিক সময়ে সিপিআর প্রয়োগ না করলে বড় বিপদ ঘটতে পারে:
সংজ্ঞা: সিপিআর হলো একটি জরুরি জীবনদায়ী পদ্ধতি, যা কোনো ব্যক্তির হৃৎস্পন্দন বা শ্বাসপ্রশ্বাস হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে প্রয়োগ করা হয়। এর মূল কাজ হলো বুকে অবিরাম চাপ দিয়ে সাময়িকভাবে রক্ত সঞ্চালন ও অক্সিজেন সরবরাহ সচল রাখা।
সুবর্ণ সময়: হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার পরের প্রথম ৪ থেকে ৬ মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে দ্রুত সিপিআর শুরু না করলে মস্তিষ্কের কোষগুলো চিরতরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সাফল্যের চাবিকাঠি: সিপিআর দেওয়ার সাফল্য নির্ভর করে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণ, সময়মতো চিকিৎসা শুরু হওয়া এবং ডিফিব্রিলেটরের মতো আধুনিক যন্ত্রের সঠিক ব্যবহারের ওপর। যদিও এটি সব সময় অলৌকিক ফল দেয় না, তবে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ জীবন বাঁচাতে জাদুকরী ভূমিকা পালন করতে পারে।