ইটভাটা ভাঙচুর ও লুটপাট কাণ্ড, হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেলেন ‘কেষ্ট’ মণ্ডল

এর আগে সিউড়ি আদালত এই মামলায় অনুব্রত মণ্ডলের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিলেও, নিম্ন আদালতের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁর আইনজীবীরা। সোমবার এই মামলার শুনানির সময় অনুব্রতর আইনজীবী আদালতে জানান যে, এই একই মামলার অন্যতম প্রধান সহ-অভিযুক্ত জয়দেব বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিপূর্বেই হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়ে গিয়েছেন। যদিও রাজ্যের কৌঁসুলিরা অনুব্রতর জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন, তবে সমস্ত পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ তাঁর আগাম জামিন মঞ্জুর করেন। হাইকোর্টের এই রায়ে বীরভূমের প্রভাবশালী নেতা অনুব্রত ওরফে ‘কেষ্ট’ মণ্ডল যে আইনি স্বস্তি পেলেন, তা বলাই বাহুল্য।
ঠিক কী অভিযোগ ছিল? ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালে। শান্তিনিকেতন থানায় দায়ের হওয়া মূল অভিযোগ অনুযায়ী, বোলপুরের ত্রিসুলাপট্টির বাসিন্দা তথা বিজেপি সমর্থক শুভেন্দু মণ্ডল দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে ওই এলাকায় ইটভাটার ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। তাঁর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হওয়ার পরেই তাঁর ওপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা শুরু হয়।
অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছিল, অনুব্রত মণ্ডলের ‘সবুজ সঙ্কেত’ বা প্ররোচনাতেই কঙ্কালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৎকালীন উপপ্রধান মামন শেখের নেতৃত্বে প্রায় ২০০ জনের একটি সশস্ত্র দুষ্কৃতীর দল ওই ব্যবসায়ীর ইটভাটায় চড়াও হয়। সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালানোর পাশাপাশি কর্মচারীদের মারধর করে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ইট লুট করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। শুধু তাই নয়, ব্যবসায়ী ও তাঁর কর্মীদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই পুরনো ঘটনার প্রেক্ষিতেই অনুব্রত মণ্ডলসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়। আদালতের এই রায়ের ফলে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মাঝে বড়সড় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন ‘কেষ্ট’ মণ্ডল।