ময়দানে চরম সংঘাত! সৌরভ বনাম অভিষেক ডালমিয়া দ্বন্দ্বে তোলপাড় বাংলার ক্রিকেট!

রাজ্য রাজনীতি ও ক্রীড়াঙ্গনের সমীকরণ যেন এক বিন্দুতে এসে মিলেছে। বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের প্রস্তুতির তদারকি করতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দেখা গেল প্রাক্তন সিএবি সভাপতি অভিষেক ডালমিয়াকে। ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ-র ফেসবুক পোস্টে এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই ময়দানে শুরু হয়েছে জল্পনা। একে তো ক্রীড়ামন্ত্রীর ফেসবুক পোস্ট, তার ওপর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে অভিষেকের এই উপস্থিতি—সব মিলিয়ে খেলাধুলা ও রাজনীতির অন্দরে নতুন করে সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

ক্রিকেট ময়দানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘ওয়ার’:
নেতাজি ইন্ডোরের এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই ময়দানে উত্তাপ ছড়িয়েছিল প্রাক্তন সিএবি সভাপতি অভিষেক ডালমিয়ার একটি চিঠি। ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ-কে পাঠানো ওই চিঠিতে অভিষেক বাংলার ক্রিকেটে দুর্নীতি রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আবেদন জানিয়েছেন। তিনি খেলোয়াড়, কোচ ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য একটি পরিচয় গোপন রাখা যায় এমন হেল্পলাইন নম্বর চালুর আর্জি জানিয়েছেন। চিঠিতে তিনি সিএবি প্রশাসনে থাকাকালীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন লড়াইয়ের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর এই পোস্টটি রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে ক্রিকেটমহলে।

সৌরভ বনাম অভিষেক: প্রকাশ্যে ডুয়েল:
অভিষেক ডালমিয়ার এই পদক্ষেপের পরেই সিএবি-র পক্ষ থেকে পাল্টা চিঠি দেওয়া হয়েছে ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে। সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সহ চার শীর্ষ পদাধিকারীর সই সম্বলিত এই চিঠিতে সরাসরি অভিষেক ডালমিয়াকে নিশানা করা হয়েছে। এতদিন যা ছিল পর্দার আড়ালে, তা এখন প্রকাশ্যে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় আগেভাগেই জানিয়ে দিয়েছেন, সিএবি-র ভাবমূর্তি স্বচ্ছ এবং এতে কোনো প্রশ্ন ওঠার সুযোগ নেই। একদিকে অভিষেক ডালমিয়ার দুর্নীতি বিরোধী বার্তা, আর অন্যদিকে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সিএবি-র পালটা জবাব—এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে এখন সরগরম বাংলার ক্রিকেট প্রশাসন।

যোগ দিবসে রেড রোডে ‘মেগা ইভেন্ট’:
ময়দানের এই রাজনৈতিক সংঘাতের আবহেই আগামী রবিবার আন্তর্জাতিক যোগ দিবস নিয়ে রেড রোডে সাজ সাজ রব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসছেন কলকাতায়। রেড রোডে তৈরি হচ্ছে সুবিশাল মঞ্চ। মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি রাজ্যপাল ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন এই মেগা ইভেন্টে। ১০০০ জন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ছাড়াও দেশ-বিদেশের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি আমন্ত্রণ পেয়েছেন। রেড রোডের দুই পাশে ঘাসের গালিচার ওপর কার্পেট বিছিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একদিকে যোগ দিবসের এই আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি, অন্যদিকে ময়দানের এই রাজনৈতিক অস্থিরতা—সব মিলিয়ে কলকাতা এখন দুই মেরুর উত্তাপে জ্বলছে।