বিদেশে সুপারহিট মারুতির ‘ই-ভিটারা’! মাত্র ৩ মাসে ৪৭টি দেশে ঝড় তুলল ভারতের ইভি

বিশ্ববাজারে ভারতীয় ইলেকট্রিক গাড়ির (EV) চাহিদা এখন অবিশ্বাস্য গতিতে বেড়েই চলেছে। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে দেশ থেকে ইভি রপ্তানি রেকর্ড ভেঙে ১৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর এই নির্দিষ্ট সময়ে যেখানে বিশ্ববাজারে মাত্র ১,১২২টি বৈদ্যুতিক গাড়ি বিদেশে পাঠানো হয়েছিল, সেখানে বর্তমান ত্রৈমাসিকে সেই সংখ্যা একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫,৬৪১ ইউনিটে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিককালে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলা রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম লাগাতার ঊর্ধ্বমুখী। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ও বিদেশি ক্রেতারা ক্রমবর্ধমান জ্বালানি খরচের হাত থেকে বাঁচতে সাশ্রয়ী ইলেকট্রিক গাড়ির দিকে ঝুঁকছেন, যার সরাসরি ফায়দা পাচ্ছে ভারতের শীর্ষস্থানীয় অটোমোবাইল কোম্পানিগুলি।

মারুতির ‘ই-ভিটারা’-র ঐতিহাসিক সাফল্য এই দুর্দান্ত ও অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় এবং সিংহভাগ ভূমিকা রয়েছে দেশের অন্যতম প্রধান গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা মারুতি সুজুকির নতুন ইলেকট্রিক এসইউভি ‘ই-ভিটারা’-র। লঞ্চ হওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে ঝড় তুলেছে এই গাড়িটি। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে বিশ্বের প্রায় ৪৭টি দেশে মোট ১৫,২১০টি ‘ই-ভিটারা’ রপ্তানি করে মারুতি বিশ্বঅটোমোবাইল বাজারে এক নতুন নজির গড়েছে। বর্তমানে এই গাড়িটির প্রধান বাজার হিসেবে উঠে এসেছে ব্রিটেন ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

বড় বিনিয়োগের পথে টাটা ও মহিন্দ্রা মারুতির এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পাশাপাশি দেশের অন্য দুই অটোমোবাইল জায়ান্ট— টাটা মোটরস এবং মহিন্দ্রা অ্যান্ড মহিন্দ্রাও বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের আধিপত্য ও অবস্থান আরও শক্ত করতে ময়দানে নেমে পড়েছে। বিশ্বমানের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকতে এই দুই দেশীয় সংস্থা আগামী দিনে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

উন্নত দেশগুলিতেও বাড়ছে ভারতীয় ইভির কদর একসময়ে ভারতীয় গাড়ি বলতেই শুধু অভ্যন্তরীণ বাজার বোঝানো হলেও, বর্তমান ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। উন্নত প্রযুক্তি, মার্জিত আধুনিক ফিচার এবং বিশ্বমানের তুলনায় অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে এখন ইউরোপ এবং জাপানের মতো প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত দেশগুলোতেও ভারতীয় বৈদ্যুতিক গাড়িগুলির কদর আকাশছোঁয়া। বিশ্ববাজারে ভারতীয় ইভি-র এই জয়রথ আগামী দিনে দেশের অটোমোবাইল শিল্পকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।