সই জাল বিতর্ক থেকে শুরু করে দলবিরোধী কার্যকলাপ—অভিযোগের পাহাড়। আর সেই অভিযোগের জেরেই এবার কড়া পদক্ষেপ নিল তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার দুপুরে ইমেল এবং হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে দল থেকে সাসপেন্ড করার কথা জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কথা চিঠি দিয়ে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকেও আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে ঘাসফুল শিবির।
সূত্রের খবর, বিধানসভার সই জালকাণ্ডকে কেন্দ্র করে গত ২৬ মে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করতে যান ঋতব্রত এবং সন্দীপন। এই বৈঠকই যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তা স্পষ্ট দলীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই। এর আগে, বিধানসভার সচিবালয়ের পক্ষ থেকে সই জাল করার অভিযোগ হেয়ার স্ট্রিট থানায় জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সিআইডি-কে দিয়ে ঘটনার তদন্তভার পরিচালনা করার নির্দেশ দেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধায়কদের নবান্ন সফর এবং প্রশাসনিক তদন্তের প্রক্রিয়াটিই তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে ‘দলবিরোধী কাজ’ হিসেবে গণ্য হয়েছে।
দল থেকে বহিষ্কারের পর বিধায়ক সন্দীপন সাহা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “যারা অনৈতিক কাজ করে, দল তাদের সমর্থন করছে। আর যারা নৈতিক কাজ করে, তাদের বহিষ্কার করা হচ্ছে। আমরা জানতামই না যে একটি হাজিরা খাতার সইকে প্রস্তাবের সই বলে চালানো হবে।” তাঁর এই মন্তব্য যে দলের অন্দরে ফাটল চওড়া হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ‘বেসুরো’ নেতাদের তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। একে একে দলের অনেক মন্ত্রী ও বিধায়ক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন। কখনও বোর্ড ভেঙে যাচ্ছে, আবার কখনও কাউন্সিলররা গণপদত্যাগ করছেন। তৃণমূলের অস্বস্তি যে চরমে, তা গতকাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে মাত্র ২০ জন বিধায়কের উপস্থিতিতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেই অস্বস্তির আগুনে ঋতব্রত ও সন্দীপনের বহিষ্কার যেন ঘি ঢালল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো এখন কার্যত ছন্নছাড়া হয়ে পড়ছে, যা আগামী দিনে দলের অস্তিত্ব রক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেদের দাবি করলেও, একের পর এক বিধায়কের এই বহিষ্কার শাসকদলের দুর্বলতার ছবিটাই আরও প্রকট করে তুলছে।





