শিশুর ডিহাইড্রেশনকে হালকাভাবে নেবেন না! বিপদ এড়াতে সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

শিশুর সুস্বাস্থ্যের ভিত্তি হলো সঠিক আর্দ্রতা। গরম আবহাওয়া, জ্বর, বমি বা ডায়রিয়ার কারণে শিশুদের শরীরে দ্রুত জলের ঘাটতি বা ‘ডিহাইড্রেশন’ দেখা দিতে পারে। ছোট শিশুদের শরীরের গঠন বড়দের থেকে আলাদা হওয়ায় তাদের ক্ষেত্রে পানিশূন্যতার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এটি শিশুর শরীরের গুরুতর অবনতি ঘটাতে পারে।
ডিহাইড্রেশন চেনার লক্ষণসমূহ: আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স-এর মতে, শিশুর শরীরে জলের অভাব হলে কিছু স্পষ্ট লক্ষণ ফুটে ওঠে:
তৃষ্ণা ও শুষ্কতা: শিশু অস্বাভাবিক বেশি তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ে এবং মুখ ও ঠোঁট শুষ্ক দেখায়।
প্রস্রাবের পরিবর্তন: প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হলুদ হওয়া পানিশূন্যতার বড় লক্ষণ।
শারীরিক পরিবর্তন: ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে কান্নার সময় চোখের জল কম বের হওয়া, চোখ কোটরে ঢুকে যাওয়া বা মাথার তালুর নরম অংশ দেবে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।
নিস্তেজ ভাব: শিশু খেলছে না, অতিরিক্ত ঘুমাচ্ছে বা অত্যন্ত দুর্বল দেখাচ্ছে—এমনটা দেখলে সচেতন হন।
শিশুর পানিশূন্যতা দেখা দিলে করণীয় কী?
ঘন ঘন জল ও ওআরএস: সামান্য লক্ষণ দেখা দিলেই শিশুকে অল্প অল্প করে বারবার জল বা ওআরএস (ORS) পান করান।
মায়ের দুধ: শিশু যদি স্তন্যপায়ী হয়, তবে ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়ান।
ধৈর্য ধরে খাওয়ানো: একবারে অনেকটা তরল না দিয়ে চামচে করে অল্প অল্প করে খাওয়ানো ভালো। এতে বমির প্রবণতা কমে।
কখন অবিলম্বে ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন? কিছু পরিস্থিতি তৈরি হলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের দ্বারস্থ হওয়া জরুরি: ১. শিশু যদি অত্যন্ত নিস্তেজ হয়ে পড়ে। ২. বারবার বমি করতে থাকে এবং কিছু খেতে পারছে না। ৩. বেশ কয়েক ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও প্রস্রাব না করে। ৪. লক্ষণগুলো দ্রুত খারাপ হতে থাকলে।