রাজ্যের জনপ্রিয় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের টাকা তছরুপের অভিযোগে এবার রীতিমতো বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, রাজ্যের মানুষের জন্য বরাদ্দ এই সরকারি অর্থ পরিকল্পিতভাবে লুঠ করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এখনও পর্যন্ত ২২টি ভুয়ো অ্যাকাউন্টের হদিশ পাওয়া গিয়েছে, যেখানে মহিলারা নয়, বরং পুরুষরা এই প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন। এই দুর্নীতিতে জড়িতদের কাউকে রেয়াত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যারা এতদিন নিজেদের নেতা বলে দাবি করতেন, তারা সাধারণ মানুষের টাকা লুঠ করেছেন। ১৫টি অ্যাকাউন্ট কেবল মুস্তাফিজুর রহমানের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এই দুর্নীতির জাল কতদূর বিস্তৃত, তা এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। হাজার হাজার তৃণমূল নেতা যারা এই লুঠের সঙ্গে সরাসরি জড়িত, তাদের গ্রাসরুট বা তৃণমূল স্তর থেকে খুঁজে বের করা হবে।” আর্থিক তছরুপ বা মানি লন্ডারিংয়ের মতো গুরুতর অভিযোগে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT) গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, অন্তত ৩০ লক্ষ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা নয়ছয় করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরাও এই প্রকল্পের টাকা তুলে নিচ্ছে, যা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। সরকারি টাকা কীভাবে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে বের করে লুঠ করা হয়েছে, তার প্রতিটি হিসাব নেওয়া হবে।” নাম না করে তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতাদের দিকে আঙুল তুলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, রাকিবুল শেখ এবং মুস্তাফিজুর রহমানদের মতো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা।
সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল নেতৃত্বের ওপর জনরোষের যে খবর সামনে আসছে, সে বিষয়েও মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দলীয় নেতা-মন্ত্রীদের হেনস্থার ঘটনাকে তিনি ‘স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষ’ বলেই অভিহিত করেছেন। তিনি দলীয় কর্মীদের আইন হাতে তুলে না নেওয়ার আবেদন জানিয়ে বলেন, “সব বিক্ষোভে রাজনৈতিক দলের হাত নেই, এটা মানুষের ক্ষোভ। অনেক কাউন্সিলর ও চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে অঢেল বেআইনি সম্পত্তি উদ্ধার হচ্ছে। রাজ্যে এখন আইন-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা হচ্ছে এবং প্রশাসন ও পুলিশ বর্তমানে অত্যন্ত সক্রিয়।”
সরকার পরিবর্তনের এক মাসের মধ্যেই প্রশাসনের এই তৎপরতা সাধারণ মানুষ চেয়েছিলেন বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কাউকেই যে ছাড়া হবে না, সে বিষয়ে তিনি অনড়। রাজ্যবাসীর করের টাকা চুরির এই ঘটনা আগামী দিনে তৃণমূলের অস্বস্তি যে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে, তা স্পষ্ট।





