SIR-এর আগে বিস্ফোরক পরিসংখ্যান! সীমান্তবর্তী জেলায় অস্বাভাবিক ভোটার বৃদ্ধির হার, কলকাতায় মাত্র ৪%, প্রশ্নের মুখে নির্বাচন কমিশন

সিস্টেম্যাটিক ইনফরমেশন কালেকশন অন ইলেক্টর্স (SIR) প্রক্রিয়ার আবহে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) প্রকাশিত এক সর্বশেষ পরিসংখ্যান রাজ্যে নতুন করে রাজনৈতিক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০২ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার সংখ্যা আশ্চর্যজনক হারে বেড়েছে, যার সামগ্রিক বৃদ্ধির হার ৬৭.২৮ শতাংশ! তবে এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ সীমান্তবর্তী জেলাগুলির ‘অস্বাভাবিক উত্থান’।সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, কলকাতা তলানিতেকমিশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতেই ভোটার বৃদ্ধির হার সর্বাধিক।জেলা (সীমান্তবর্তী)ভোটার বৃদ্ধির হার (২০০২-২০২৫)উত্তর দিনাজপুর১০৫% (দ্বিগুণেরও বেশি)মালদহ৯৫%উত্তর ২৪ পরগনা৮৩%জলপাইগুড়ি৮২%দক্ষিণ ২৪ পরগনা৭২%বিপরীতে, রাজ্যের রাজধানী কলকাতা শহরে ভোটার বৃদ্ধির হার এই একই সময়ে মাত্র ৪ শতাংশ, যা এই অস্বাভাবিকতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যের সামগ্রিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের সঙ্গে ভোটার বৃদ্ধির এই হার কোনোভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়।২০০৯ থেকে ২০১৭: বামফ্রন্ট থেকে তৃণমূলের আমলে সর্বাধিক বৃদ্ধিনির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট বলছে, গত দুই দশকে ভোটার বৃদ্ধির হার নির্দিষ্ট একটি সময়কালে ছিল সবচেয়ে বেশি:২০০৯ থেকে ২০১৭: এই সময়কালেই ভোটার বৃদ্ধি হয়েছে সর্বাধিক (২১.৮ শতাংশ), যা বামফ্রন্ট শাসনের শেষ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম পর্যায়কে নির্দেশ করে।২০০২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধির হার ছিল ১২ শতাংশ।২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বৃদ্ধির হার কিছুটা কমে দাঁড়ায় ১২ শতাংশে।রাজনৈতিক তরজা: ‘পোকা মারতে প্রতিষেধক’ বনাম ‘সংখ্যালঘু তাড়াও’এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই পুরোনো অভিযোগ ফের সামনে এনেছে বিজেপি। বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ এসআইআর প্রক্রিয়াকে এর প্রতিষেধক হিসেবে দেখছেন।শঙ্কর ঘোষের দাবি:”এই প্রশ্নগুলো শুভেন্দু অধিকারী দীর্ঘদিন ধরেই তুলে আনছেন। SIR হচ্ছে এক্ষেত্রে প্রতিষেধক। জমিতে পোকা মারতে প্রতিষেধক দিলে যেমন মাটির নীচে লুকিয়ে থাকা পোকামাকড় বেরিয়ে আসে, এক্ষেত্রেও তেমনটাই হচ্ছে। আর তাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পথে নেমেছেন।”পালটা তীব্র আক্রমণ করেছে তৃণমূল। তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বিজেপিকে সংখ্যালঘু-বিরোধী বলে তোপ দেগেছেন।অরূপ চক্রবর্তীর জবাব:”সিলেবাসে বলা ছিল সংখ্যালঘু তাড়াও। এখন হচ্ছে মতুয়া তাড়াও, এসএসটি তাড়াও। সীমান্তবর্তী এলাকায় যে বিপুল উত্থান, তা নতুন কিছু নয়। সীমান্তবর্তী এলাকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাংসদ কারা, সেটাও একবার দেখা উচিত।”২০০২ সালে প্রথমবার এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সময়ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ভোটার বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিলেছিল। ২০২৫ সালে ফের এই প্রক্রিয়া শুরুর প্রাক্কালে সেই একই বিষয় নিয়ে কমিশনের রিপোর্ট রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন করে চরম উত্তাপ ছড়াল।