“১৮ দিনের অনশন সোনমের”-কেন্দ্রের ‘নীরবতা’য় অটল ওয়াংচুক!, হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা

জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলছে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের আমরণ অনশন। আন্দোলনের আজ ১৮তম দিনে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। অনশন শুরুর পর থেকে ইতিমধ্যেই তাঁর ৮.৫ কেজি ওজন কমেছে এবং শরীরে শুরু হয়েছে পেশির ক্ষয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ সিজেপি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানান, তাঁরা বহুবার কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সরকারের তরফ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। অভিজিৎ দীপকের অভিযোগ, “কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এই আন্দোলনের দাবিগুলোকে উপেক্ষা করছে এবং সম্পূর্ণ নীরবতা পালন করছে।” সংগঠনের পক্ষ থেকে সোনমকে বারবার অনশন ভাঙার অনুরোধ জানানো হলেও, তিনি নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, সোনম বর্তমানে এতটাই দুর্বল যে তিনি খুব অল্প কথা বলতে পারছেন।
দিল্লি হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা (PIL) সোনম ওয়াংচুকের ক্রমবর্ধমান শারীরিক অবনতির পরিপ্রেক্ষিতে, তাঁর চিকিৎসার দাবিতে দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করেছেন আইনজীবী রাকেশকুমার সাইনি। মামলার আবেদনে অবিলম্বে সোনমকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা এবং তাঁর জন্য জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারকে নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে।
আন্দোলনের পটভূমি উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন থেকে NEET পরীক্ষা ও বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষায় স্বচ্ছতার দাবিই এই অনশনের মূল ভিত্তি।
এদিকে, যন্তর মন্তরে অনশনমঞ্চে খাবার পরিবেশন বা খাওয়ার যে বিতর্ক উঠেছিল, সে বিষয়েও সিজেপি-র পক্ষ থেকে কড়া জবাব দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, সরকারের নীরবতা এবং সমাজকর্মীর এই দীর্ঘ লড়াই এখন জাতীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এখন দেখার, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশের পর কেন্দ্র কোনো আলোচনায় বসার উদ্যোগ নেয় কি না।