গুপ্তধনের লোভে তান্ত্রিকের নরবলি! কুড়ুল দিয়ে শিরশ্ছেদ করে খুন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী

মধ্যপ্রদেশের রাইসেন জেলার গৈরতগঞ্জ এলাকা থেকে উঠে এসেছে এক লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের খবর, যা কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের এক চরম পরিণতির সাক্ষী হয়ে রইল। গুপ্তধন উদ্ধারের নেশায় মেতে এক ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে নরবলি দেওয়ার ঘটনায় স্তব্ধ গোটা রাজ্য। ৭ই জুলাই থেকে নিখোঁজ ছিলেন শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ৪২ বছর বয়সী বিজয় জৈন। প্রায় ৬ দিনের চেষ্টায় পুলিশ এই খুনের কিনারা করে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।

নিহত বিজয় জৈন ছিলেন স্থানীয় এক প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য। ২০১৩ সালে তাঁর বাড়িতে ঘটে যাওয়া ৩ কোটি টাকার ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনার পর থেকে তিনি ব্যবসায়িক জগতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকে বিজয়ই পরিবারের ঋণদান ও আর্থিক ব্যবসার হাল ধরেছিলেন। শহরের এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল। কিন্তু সেই পরিচিতিই সম্ভবত তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াল।

৭ই জুলাই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার পর ৯ই জুলাই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। ১৩ই জুলাই পারাসিয়া গ্রামের কাছে এক নদীর তীরে কাদার মধ্যে পুঁতে রাখা অবস্থায় একটি মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। হাত-পা বেরিয়ে থাকায় স্থানীয়দের নজরে আসে বিষয়টি। পরিবারের লোকজন দেহটি শনাক্ত করেন বিজয়ের পোশাক, মোবাইল ফোন এবং তাঁর কৃত্রিম চোখের সাহায্যে। এসপি আশুতোষ গুপ্তের নেতৃত্বাধীন পুলিশ ও ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠায়।

তদন্তে নেমে বেগমগঞ্জের পুলিশ ইন্সপেক্টর ডি.পি. লোহিয়া প্রধান অভিযুক্ত প্রহ্লাদ সাহুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। আর তাতেই বেরিয়ে আসে এক ভয়াবহ সত্য। অভিযুক্ত প্রহ্লাদ নিজেই তান্ত্রিক আচার-অনুষ্ঠান করত এবং সে বিজয়ের কাছে গুপ্তধন লুকানো থাকার প্রলোভন দেখিয়েছিল। অভিযুক্তের বদ্ধমূল ধারণা ছিল, পারাসিয়া নদীর তীরে মাটির গভীরে বিপুল সম্পদ লুকানো আছে, যা পেতে প্রয়োজন ‘নরবলি’।

৭ই জুলাই প্রহ্লাদ তার সহযোগী করিম খান এবং ছেলে টিকাম সাহুকে নিয়ে বিজয়কে মোটরসাইকেলে করে নদীর তীরে নিয়ে যায়। তান্ত্রিক আচারের মাঝপথেই প্রহ্লাদ চিৎকার করে বলে ওঠে, “পৃথিবী উত্তপ্ত, গুপ্তধনের জন্য বলিদানের প্রয়োজন!” এরপরই ওই তিন দুষ্কৃতী মিলে বিজয়কে জাপটে ধরে কুড়ুল দিয়ে নৃশংসভাবে তাঁর গলা কেটে হত্যা করে। মৃতদেহটি লোপাট করতে তারা নদীর তীরে পুঁতে দেয়।

রাইসেনের এএসপি দীপক নায়েক জানিয়েছেন, অপরাধে ব্যবহৃত কুড়ুল, বেলচা, মোটরসাইকেল এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তিন অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এই নৃশংস ঘটনাটি যেন মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে হার মানিয়েছে। অন্ধবিশ্বাস কীভাবে একটি পরিবারের সুখের সংসার ধ্বংস করে দিতে পারে, এই হত্যাকাণ্ড তারই এক নির্মম দৃষ্টান্ত। দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।