শেষমেশ আদালতে হাজিরা, ডিজে মামলায় কণ্ঠস্বরের নমুনা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

দীর্ঘ টালবাহানা এবং কলকাতা হাইকোর্টের কড়া অবস্থানের পর অবশেষে ডি-জে (DJ) মন্তব্য বিতর্কে নিজের কণ্ঠস্বরের নমুনা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতের নির্দেশ এবং আইনি রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের চরম হুঁশিয়ারির মুখে পড়ে বুধবার বিধাননগর আদালতে হাজিরা দেন তিনি। যদিও পুরো প্রক্রিয়ার শেষে কোনো মন্তব্য না করেই তিনি আদালত চত্বর ত্যাগ করেন, যা রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন করে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।

বুধবার বেলা ১১টা নাগাদ কলকাতার কালীঘাট থেকে রওনা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কনভয় মা উড়ালপুল ও ইএম বাইপাস হয়ে দুপুর ১১টা ৪৯ মিনিট নাগাদ সল্টলেকের বিধাননগর আদালতে পৌঁছায়। আদালতের নিয়ম ও নির্দেশিকা মেনে নির্দিষ্ট কক্ষে তিনি তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা প্রদান করেন। এই ঘটনার গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ অতীতে দুই দফায়—৩০ জুন এবং ৮ জুলাই—তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে তলব করা হলেও তিনি হাজিরা দেননি।

উল্লেখ্য যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাইকোর্টে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। গত ১০ জুলাই মামলার শুনানিতে বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, “সবকিছুর একটা সীমা আছে। বিচারকের নির্দেশ মানতেই হবে।” হাইকোর্ট সেই সময়ই জানিয়ে দিয়েছিল, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তদন্তে সহযোগিতা করার শর্তেই আইনি রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ অমান্য করার অর্থ হলো শর্ত লঙ্ঘন করা। আদালত থেকে সেই সময় হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল যে, তদন্তে সহযোগিতা না করলে আইনি সুরক্ষা প্রত্যাহার করা হতে পারে এবং এমনকি দৃষ্টান্তমূলক আর্থিক জরিমানা ধার্য করা হতে পারে।

আদালতের এই কঠোর অবস্থানের পরই বুধবারের এই হাজিরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এদিনের নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, তা বিচারপতির কাছে জমা দেওয়া হবে বলে আদালত সূত্রে খবর। এই কণ্ঠস্বরের নমুনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডি-জে মন্তব্য মামলার অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রমাণের সত্যতা যাচাই করা হবে। মূলত এই নমুনার ওপর ভিত্তি করেই তদন্তকারী সংস্থা তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে।

তৃণমূলের অন্দরে এবং বিরোধী শিবিরেও এই ঘটনার দিকে নজর ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের এই কঠোর হস্তক্ষেপ তদন্তের গতিপথকে ত্বরান্বিত করবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদালতে উপস্থিতি এবং নমুনা প্রদান প্রমাণ করে যে, আইনি বাধ্যবাধকতার প্রশ্নে আদালত কোনোভাবেই নমনীয় নয়। এখন দেখার বিষয়, সংগৃহীত এই কণ্ঠস্বরের নমুনা ফরেনসিক পরীক্ষার পর ডি-জে মন্তব্য মামলার তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়। আপাতত গোটা প্রক্রিয়াটি আদালতের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হওয়ায় আইনি লড়াই নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল।