বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গ, স্পেনের কাছে ফ্রান্সের হারে উত্তাল প্যারিস! রাস্তায় ক্ষুব্ধ সমর্থকরা

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হার মানতেই ফ্রান্সের আকাশে-বাতাসে নেমে এল গভীর হতাশা। টেক্সাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই বিদায় নিশ্চিত হলো এমবাপেদের। আর মাঠের সেই হারের রেশ মাঠ ছাড়িয়ে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল ফ্রান্সের রাস্তাঘাটে। পরাজয়ের তীব্র যন্ত্রণা ও হতাশায় প্যারিসসহ দেশের বিভিন্ন শহরে শুরু হলো ব্যাপক উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা।
রাস্তায় নেমে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ম্যাচ শেষ হতেই প্যারিসের মতো ব্যস্ত শহরে হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে আসেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতের অন্ধকার চিরে জ্বলছে আগুন। পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা এবং ধস্তাধস্তির ঘটনায় কয়েকটি এলাকা মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রিয় দলের হারে চোখের জল আর ক্ষোভের মিশেলে এক অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কেন এই ক্ষোভ? চার বছর ধরে লালন করা তৃতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন এক নিমেষে ভেঙে যাওয়ায় সমর্থকরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ম্যাচজুড়ে ফ্রান্সের নিষ্প্রভ আক্রমণ, মাঝমাঠের চরম ব্যর্থতা এবং প্রথমার্ধে পেনাল্টি থেকে গোল খাওয়ার ঘটনায় সমর্থকদের ক্ষোভ আরও বাড়ে। অনেকের মতেই, স্পেনের সুসংগঠিত ফুটবলের সামনে ফরাসিদের এই পরাজয় ছিল প্রত্যাশার চেয়েও বেশি বেদনাদায়ক।
কী বললেন অধিনায়ক এমবাপে? পরাজয়ের দায় সম্পূর্ণ নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। তিনি বলেন, “আমরাই স্পেনকে খেলার সুযোগ দিয়েছি। মাঝমাঠের খেলোয়াড়দের অনেক বেশি সময় ও জায়গা দিয়েছি। আমরা ফাইনালে ওঠার মতো ফুটবল খেলতে পারিনি।” সমালোচনা নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, “জিতলে প্রশংসা পাওয়া যায়, হারলে সমালোচনাও শুনতে হয়। এটাই স্বাভাবিক। অধিনায়ক হিসেবে সব দায়িত্ব আমার।”
ফুটবল ম্যাচ শেষে মাঠের লড়াই শেষ হলেও, ফ্রান্সের রাস্তায় তখন চলছিল হতাশা আর আবেগের এক করুণ লড়াই। একটি ম্যাচের হার কীভাবে একটি দেশের রাজপথে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে, বুধবারের রাত তা আবারও প্রমাণ করল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।