ঋতব্রত শিবিরের ২১শের মেনুতে নেই ‘ডিম-ভাত’, খাবারের মেনু নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা

২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসকে ঘিরে এবার বাংলায় শুধু রাজনৈতিক তরজাই নয়, খাবারের মেনু নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রবল কৌতূহল। বছরের পর বছর ধরে তৃণমূলের কর্মসূচিতে ‘ডিম-ভাত’ যে অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছিল, ক্ষমতার পালাবদলের পর সেই ঐতিহ্যে কি ভাটা পড়ছে? এবারের ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে খাবার নিয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে উঠে এল নানা চমকপ্রদ তথ্য।
তৃণমূলের অন্দরে খাবারের মেনু তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবিরে এখন বিভাজন স্পষ্ট। একদিকে মমতা-পন্থী তৃণমূল, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। খাবারের মেনু নিয়ে ঋতব্রত-তৃণমূলের চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আলাদা করে মেনুতে ডিম-ভাতের কোনো ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে না। এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।” অর্থাৎ, এবারের ২১ জুলাইয়ের সভায় কর্মীদের পাতে ডিম-ভাতের সেই আইকনিক মেনু থাকছে না। এর পরিবর্তে শহিদ পরিবারদের নিয়ে কোনো বিশেষ চমক রাখা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
কংগ্রেসের মেনুতে কী থাকছে? দীর্ঘদিন পর প্রদেশ কংগ্রেস শহিদ মিনারে বড় করে শহিদ দিবস পালন করছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ থেকে আসা কর্মীদের জন্য খাবারের সুবন্দোবস্ত করেছে কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সুমন রায়চৌধুরী জানিয়েছেন, কর্মীদের ব্রেকফাস্ট থেকে ডিনার—সবকিছুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাতে ধর্মশালায় নিরামিষ খাবারের আয়োজন থাকলেও, কিছু কিছু জায়গায় কর্মীদের জন্য ‘ডিম-ভাত’-এর ব্যবস্থাও থাকছে।
শহিদ দিবস ও রাজনীতির সমীকরণ এবারের ২১ জুলাইয়ের গুরুত্ব অন্যরকম। শহিদ মিনারে কংগ্রেসের মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। পাশাপাশি কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতির সম্ভাবনাও প্রবল। এই কর্মসূচিতে রক্তদান শিবির, স্বাস্থ্য শিবিরের মতো সামাজিক উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
খাবারের মেনুর বাইরে এবারের ২১ জুলাইয়ের মূল আকর্ষণ হলো সমাবেশের স্থান ও রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি। এক সময়কার তৃণমূলের ‘ডিম-ভাত’ সংস্কৃতি যে এবার পুরোপুরি কোণঠাসা, তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর এড়াচ্ছে না। এখন দেখার বিষয়, রাজনৈতিক মঞ্চের এই লড়াইয়ের পাশাপাশি কর্মীরা খাবারের মেনু নিয়ে কতটা তৃপ্ত হন।