‘আর বড়জোর ২ দিন বাঁচবেন,’-সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবনতিতে তোলপাড় দেশ

শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং NEET-UG প্রশ্নফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে টানা ১৮ দিন ধরে যন্তর মন্তরে আমরণ অনশনে বসেছেন প্রখ্যাত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে এতটাই উদ্বেগজনক যে, যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। এই পরিস্থিতিতে সমাজকর্মীর জীবন বাঁচাতে দিল্লির হাইকোর্টে একটি জরুরি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করেছেন আইনজীবী রাকেশ কুমার সাইনি।
হাইকোর্টে কী আবেদন করা হয়েছে? মামলার আবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, সোনম ওয়াংচুকের ওজন গত ১৮ দিনে প্রায় ৮.৫ কেজি কমেছে এবং তাঁর রক্তচাপও ক্রমশ নিম্নমুখী। অবিলম্বে কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারকে হস্তক্ষেপ করে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার এবং প্রয়োজনে জোর করে তরল খাদ্য (IV Fluids বা পুষ্টি) দেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। আইনজীবীর দাবি, সোনম ওয়াংচুককে আর দু’দিনের বেশি অনশন চালিয়ে যেতে দিলে তাঁর মৃত্যু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক হবে।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও দাবি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ডাকে এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য তিনটি:
NEET-UG প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ।
প্রশ্নফাঁসের কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া বা আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ।
সরকারের নীরবতা নিয়ে বিতর্ক আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের কথায়, “সোনমকে অপরাধী বা জঙ্গির মতো উপেক্ষা করছে সরকার। তিনি অত্যন্ত যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছেন, বাথরুম পর্যন্ত হেঁটে যেতে ওঁর মাথা ঘুরছে, তবুও তিনি অনশন ভাঙতে নারাজ।”
পরবর্তী পদক্ষেপ সোনম ওয়াংচুকের এই লড়াইকে সমর্থন জানিয়ে ককরোচ জনতা পার্টি আগামী ২০ জুলাই, সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের দিন ‘সংসদ চলো’ অভিযানের ডাক দিয়েছে। একদিকে সোনমের অনড় অবস্থান এবং অন্যদিকে তাঁর ক্ষয়িষ্ণু শরীর—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে এখন দিল্লি হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে গোটা দেশ। সোনমের অনুগামী ও সমর্থকরা উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে প্রহর গুনছেন, এই লড়াকু সমাজকর্মীর প্রাণ বাঁচাতে প্রশাসন কত দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।