বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে রেফারির সিদ্ধান্তে ফুঁসছেন দেশঁ! ফ্রান্সের বিদায়লগ্নে চরম বিতর্ক

ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হার শুধু ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নই চুরমার করেনি, বরং অবসান ঘটিয়েছে দিদিয়ের দেশঁর দীর্ঘ ১৪ বছরের গৌরবময় কোচিং অধ্যায়ের। কিন্তু বিদায়ের এই বিষাদময় মুহূর্তে মাঠের ফুটবলের চেয়েও বেশি শিরোনামে উঠে এসেছে রেফারির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য। ম্যাচ শেষে এল সালভাদরের রেফারি ইভান বার্টনের দক্ষতা নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন এই কিংবদন্তি কোচ।

ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় প্রথমার্ধের ২২ মিনিটে, যখন স্পেনের লামিন ইয়ামালকে ফাউল করার অপরাধে ফ্রান্সের লুকাস ডিনকে পেনাল্টির শাস্তি দেন রেফারি। সেই সুযোগে মিকেল ওয়ারজাবাল গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন। ম্যাচ শেষে দেশঁ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অকপটে বলেন, “আমার মনে একটিই প্রশ্ন ঘুরছে—এই রেফারি কি আদৌ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনার যোগ্য ছিলেন?” যদিও তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, কেবল হারের হতাশায় এই ক্ষোভ নয়, বরং ম্যাচের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রেফারির সিদ্ধান্তগুলো সরাসরি ফ্রান্সের বিপক্ষে গিয়েছে, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

তবে রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও নিজের দলের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেননি দেশঁ। তিনি খোলাখুলি স্বীকার করেছেন যে, মাঠের খেলায় স্পেনই ছিল অনেক বেশি সংগঠিত ও কার্যকর। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে আক্রমণের গতি—সব বিভাগেই ফ্রান্স তাদের প্রতিপক্ষের কৌশলের সামনে অসহায় ছিল। এমবাপে, দেম্বেলে কিংবা ওলিসের মতো তারকারা তাঁদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপ জেতাই ছিল আমাদের লক্ষ্য, কিন্তু স্পেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল।”

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ফরাসি ফুটবলে দেশঁ এক নতুন বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয় থেকে শুরু করে ২০২০-২১ উয়েফা নেশনস লিগ জয়—তাঁর কোচিংয়েই ফ্রান্স বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিতে পরিণত হয়। এই বিশ্বকাপের পরেই দায়িত্ব ছাড়ার কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তাঁর বিদায়ের সাথে সাথেই ফরাসি ফুটবলে এক বর্ণময় যুগের পরিসমাপ্তি ঘটল।

ফরাসি ফুটবল মহলে এখন জোর জল্পনা, কে বসবেন দেশঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে? অধিকাংশ ফুটবলপ্রেমী ও বিশেষজ্ঞের মতে, কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানই হতে পারেন ফ্রান্সের পরবর্তী কোচ। জিদানের হাত ধরে ফরাসি ফুটবল দল নতুন কোনো উচ্চতায় পৌঁছায় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে বিদায়ী মুহূর্তে দেশঁর রেফারিং বিতর্ক বিশ্বকাপ পরিচালনার মান নিয়ে যে প্রশ্ন তুলে দিল, তা দীর্ঘকাল ফুটবল মহলে আলোচনার খোরাক জোগাবে।